পরিচালকের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ অধরার

পরিচালকের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ অধরার

 

‘ভায়োলেন্স’ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন অভিনেত্রী অধরা খান। গত আগস্টের শেষ দিকে সিনেমাটিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। এটি পরিচালনা করেছেন কামাল হোসেন বাবর।

আজ রোববার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে অধরা খান লিখেছেন, ‘পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যথাযথ যোগাযোগের অভাবে আমি অনেক আগেই সিনেমাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি।’

অধরার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাবরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর সাড়া মেলেনি।

গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে কানাডার টরন্টোতে সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠিত হয়। এতে অধরা ছাড়াও জায়েদ খান, শিরিন শিলাসহ আরও অনেকে অভিনয় করেছেন।
সিনেমাটিকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন অধরা।

তিনি জানান, ‘ভায়োলেন্স’-এর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ নিতে পারেননি। চুক্তিগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা থাকায় সেসব কাজের বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারছেন না।

সুত্র: প্রথম আলো

কুড়িগ্রামে ৫৬৭ মণ্ডপে দুর্গোৎসব, নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি

কুড়িগ্রামে ৫৬৭ মণ্ডপে দুর্গোৎসব, নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি

কুড়িগ্রামে ৫৬৭টি পূজামণ্ডপে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানজট নিরসন এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত হয়েছে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। সভায় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভায় মোট ৫৬৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হবে। উৎসব ঘিরে মণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা জোরদার, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান, বিজিবির ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক এস এ মাহাবুব উল আলম এবং এনএসআইয়ের উপপরিচালক আনিসুর রহমান।

রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব এবং জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন। গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন প্রশাসনের অগ্রাধিকার। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

 

 

জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের সেমিফাইনালে কুড়িগ্রাম পৌরসভা

জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের সেমিফাইনালে কুড়িগ্রাম পৌরসভা

জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছে কুড়িগ্রাম পৌরসভা। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে চর রাজিবপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে দলটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কুড়িগ্রাম পৌরসভা। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে এগিয়ে যায় পৌরসভা দল। পরে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

খেলা শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন আমন্ত্রিত অতিথিরা। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মো. মনিরুল ইসলাম পাটওয়ারী

তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ের তরুণ ফুটবলারদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি অন্নপূর্ণা দেবনাথ। এ ছাড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবুসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল কুড়িগ্রাম পৌরসভা।

 

ফু‌লবাড়ী‌তে বোরকার আড়ালে গাঁজা বহন, নারী আটক

ফু‌লবাড়ী‌তে বোরকার আড়ালে গাঁজা বহন, নারী আটক

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বোরকার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে গাঁজা বহনের অভিযোগে রুবিনা (৪০) নামের এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে দুই কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ফুলবাড়ী বাজারের স্বর্ণপট্টি এলাকায় আতিক জুয়েলার্সের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে রুবিনার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার পরিহিত বোরকার ভেতরে প
লিথিন ও টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি পোটলা পাওয়া যায়। পরে পোটলাটি খুলে দুই কেজি ৬০০ গ্রাম শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক রুবিনা ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমণ্ডল (বিডিআর বাজার) এলাকার মিনহাজুলের স্ত্রী। ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাইম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট

সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক:

কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে ডিপোর্ট বা দেশছাড়া করার ক্ষমতা রাজ্য সরকারের নেই বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে আটকে রেখে তাকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর প্রস্তাব চ্যালেঞ্জ করে করা রিট পিটিশনের শুনানি চলাকালে তিনি এ কথা বলেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি, ‘গত ৮ আগস্ট থেকে কয়েকজন প্রতিবেশীর দেওয়া জবানবন্দি থেকে তৈরি হওয়া সন্দেহের ভিত্তি’তেই তার মক্কেলকে আটকে রাখা হয়েছে। ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) ঐ দম্পতিকে দেশান্তরের নির্দেশ এবং স্বামীর আটকের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট আবেদনটি করেন আটক ব্যক্তির স্ত্রী। স্ত্রীকে অবশ্য আটক করা হয়নি।

দেশছাড়া করার আদেশটি আপাতত ‘স্থগিত রাখা হয়েছে উল্লেখ করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া উচিত।

এসময় মনে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে (আটক ব্যক্তি) কোনো সুযোগই দেয়নি বলে জানান বিচারপতি।
পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঐ ব্যক্তিকে কেন দুই মাস ধরে হেফাজতে আটকে রাখা হয়েছে এবং তার জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব নির্ধারণে কর্তৃপক্ষ কেন ‘একটি পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করেনি?
এদিকে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমার মক্কেল দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন। তাকে আটকের ভিত্তি ছিল কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া সন্দেহ।’
বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কেবল এ ধরনের তথ্যের ওপর ভর করে কীভাবে একজন মানুষের জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব?
একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঠিক আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো ব্যক্তিকে আটক রাখা যাবে না।
বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘১৯৭০-এর দশক থেকে কত লোক সীমান্ত অতিক্রম করেছেন? তাদের সবাইকে ফেরত পাঠানো কি সম্ভব?’
মামলাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠিয়ে তিনি অনুরোধ করেন যেন এটি একটি ‘উপযুক্ত বেঞ্চে’ শুনানির জন্য পাঠানো হয়।
জানা যায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বিজেপিশাসিত অনেক রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের তারা ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করছে এবং আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশ ছাড়াই বিএসএফের সহায়তায় তাদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে (পুশ-ইন)।
বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার কয়েকদিন পরই নতুন সরকার ‘ডিটেইন, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (আটক, বাতিল ও বিতাড়ন) নীতি ঘোষণা করে। এই নীতির অধীনে পুলিশের কাজ ছিল সন্দেহভাজন তথাকথিত ‘বাংলাদেশিদের’ ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ আটকে রাখা এবং সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় দ্রুত বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া। এমন চারজন ভারতীয় নাগরিক—যাদের মধ্যে একজন নারী ও দুটি শিশুও ছিল—বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রায় এক বছর কাটানোর পর গত জুলাই মাসে আদালতের আদেশে মালদার মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে নিজ দেশে ফিরে আসেন।
এ বিষয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ‘সুতরাং, যেকোনো ব্যক্তিকে দেশান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের উচিত তার নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই করা। গুটি কয়েক মানুষের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে কেউ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন অনুপ্রবেশকারী।’
রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার যুক্তি দেন যে, আটক ব্যক্তি হয়তো জাল বা ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ডের মতো নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন।
হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন ভোটার তালিকায় নাম, নাগরিকত্ব এবং নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলো জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।