সর্বশেষ খবর
রাজারহাটে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫৪ শিক্ষার্থীর মাঝে সনদ, অর্থ ও উপহার বিতরণ
উলিপুর৭১ ডেস্ক: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে শিশু নিকেতন রাজারহাটের উদ্যোগে ২০২৫ সালের কিন্ডারগার্টেন সোসাইটির বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ, অর্থ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে প্রতিষ্ঠান চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অত্র প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মনছুর আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ আবুল হোসেন সরকার, সহকারী অধ্যাপক এরশাদুন্নবী এবং মোঃ আব্দুল হামিদ বসুনিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ ২০২৫ সালের কিন্ডারগার্টেন সোসাইটির বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে সনদপত্র, নগদ অর্থ ও উপহার তুলে দেন। প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও নৈতিক মূল্যবোধই একজন শিক্ষার্থীকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।” উল্লেখ্য, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে কিন্ডারগার্টেন সোসাইটির বৃত্তি পরীক্ষায় শিশু নিকেতন রাজারহাট থেকে মোট ৫৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে।অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা অঙ্গনের অভিভাবক নুরুল ইসলাম চিরবিদায়
মোবাশ্বের নেছারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের মালতি বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম (৮২) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টায় উপজেলার কিশামত মালতি বাড়ি গ্রামের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
শিক্ষকতা জীবনে তিনি ছিলেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাগুরু। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষক সমাজের অধিকার রক্ষায় তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা অঙ্গনে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, পাঁচ ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সোমবার রাত ১০টায় নিজ বাড়িতে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মরহুমের মৃত্যুতে শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয়রা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
উলিপুরে খাল পুন:খনন কর্মসূচির উদ্বোধন
কুড়িগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন
উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে দিনভর বর্ণিল আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় জেলাবাসী।
সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন এবং আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গে সজ্জিত এই শোভাযাত্রায় অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি “আই লাভ কুড়িগ্রাম” চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা পরবর্তী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন বাংলা নববর্ষ আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ঐতিহ্যের ধারক। এই উৎসব সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক কাতারে দাঁড়ানোর প্রেরণা দেয়। আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—হিংসা ও বৈষম্যমুক্ত একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার ফজলে রাব্বি, পুলিশ সুপার, সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, প্রশাসক, জেলা পরিষদ, বি.এম কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা বিএনপি, নিজাম উদ্দিন, জেলা সেক্রেটারি, জামায়াতে ইসলামী প্রমুখ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে নববর্ষের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জেলার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান। আনন্দ ও আগামী দিনের নতুন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামে বাংলা নববর্ষের এই উৎসব সমাপ্ত হয়।