রাজারহাটে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫৪ শিক্ষার্থীর মাঝে সনদ, অর্থ ও উপহার বিতরণ
উলিপুর৭১ ডেস্ক: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে শিশু নিকেতন রাজারহাটের উদ্যোগে ২০২৫ সালের কিন্ডারগার্টেন সোসাইটির বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ, অর্থ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে প্রতিষ্ঠান চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অত্র প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মনছুর আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ আবুল হোসেন সরকার, সহকারী অধ্যাপক এরশাদুন্নবী এবং মোঃ আব্দুল হামিদ বসুনিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ ২০২৫ সালের কিন্ডারগার্টেন সোসাইটির বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে সনদপত্র, নগদ অর্থ ও উপহার তুলে দেন। প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও নৈতিক মূল্যবোধই একজন শিক্ষার্থীকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।” উল্লেখ্য, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে কিন্ডারগার্টেন সোসাইটির বৃত্তি পরীক্ষায় শিশু নিকেতন রাজারহাট থেকে মোট ৫৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে।অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা অঙ্গনের অভিভাবক নুরুল ইসলাম চিরবিদায়
মোবাশ্বের নেছারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের মালতি বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম (৮২) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টায় উপজেলার কিশামত মালতি বাড়ি গ্রামের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
শিক্ষকতা জীবনে তিনি ছিলেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাগুরু। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষক সমাজের অধিকার রক্ষায় তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা অঙ্গনে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, পাঁচ ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সোমবার রাত ১০টায় নিজ বাড়িতে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মরহুমের মৃত্যুতে শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয়রা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
উলিপুরে খাল পুন:খনন কর্মসূচির উদ্বোধন
কুড়িগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন
উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে দিনভর বর্ণিল আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় জেলাবাসী।
সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন এবং আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গে সজ্জিত এই শোভাযাত্রায় অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি “আই লাভ কুড়িগ্রাম” চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা পরবর্তী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন বাংলা নববর্ষ আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ঐতিহ্যের ধারক। এই উৎসব সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক কাতারে দাঁড়ানোর প্রেরণা দেয়। আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—হিংসা ও বৈষম্যমুক্ত একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার ফজলে রাব্বি, পুলিশ সুপার, সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, প্রশাসক, জেলা পরিষদ, বি.এম কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা বিএনপি, নিজাম উদ্দিন, জেলা সেক্রেটারি, জামায়াতে ইসলামী প্রমুখ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে নববর্ষের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জেলার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান। আনন্দ ও আগামী দিনের নতুন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামে বাংলা নববর্ষের এই উৎসব সমাপ্ত হয়।
উলিপুরে পরিবারের উপর অভিমান করে বৃদ্ধের আত্মহত্যা
স্থানীয় ও স্বজন সুত্রে জানা যায়, জব্বার পেশায় কাঠমিস্ত্রী ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজও করতেন। আজ থেকে প্রায় ৫বছর আগে ১ম স্ত্রী মারা যায় পরে দীর্ঘদিন একাকিত্ব জীবনযাপন করেন। কিছুদিন ২য় বিবাহ করেন। নিঃসন্তান ২য় স্ত্রীকে নিয়ে সংসার জীবন চালিয়ে যাচ্ছিলো জব্বার। ২য় স্ত্রীকে নিয় সংসার করায় বাড়িতে থাকা পুত্র ও পুত্রবধূদের সাথে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি হতো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীদের ভাষ্যমতে ২য় বিয়ে করার কারনে ছেলেদের সাথে প্রায় ঝগড়াঝাটি হতো যার কারনে আত্মহত্যা করতে পারে বলেন জানা যায়।
মোঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উলিপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে জব্বারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করনে।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করা হয় এবং একটি অপমৃত্যু মামলাও হয়েছে বলে জানান।
#কামরুজ্জামান স্বাধীন/উলিপুর/সাব-এডিটর
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা: উলিপুরে আবারও হাসপাতালের ছাদ ধস
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও আউটডোর ও ইনডোরে রোগীদের ভিড় ছিল। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ করেই পুরাতন ভবনের একটি করিডোরের ছাদের পলেস্তারা বিকট শব্দে ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে ইট, বালু ও কংক্রিটের বড় বড় টুকরো পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার সময় সেখান দিয়ে বেশ কয়েকজন রোগী যাতায়াত করলেও তারা অলৌকিকভাবে অক্ষত থাকেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা তরিকুল ইসলাম বলেন, এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা নিতে আসা মানে জীবন বাজি রাখা।" শুধু রোগী নন, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরাও প্রতিনিয়ত এই জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং জরাজীর্ণ। এর আগেও কয়েক দফা পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে কিছু সংস্কার করা হলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারেনি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বারবার জানানোর পরও কার্যকর সংস্কার বা নতুন ভবনের বরাদ্দ না আসায় দিন দিন ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জরাজীর্ণ এই ভবনটি দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক। অন্যথায় বড় কোনো প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে।
রমজানে উলিপুরে সুলভ মূল্যে দুধ-ডিম, স্বস্তি ক্রেতাদের
উলিপুরে শিক্ষকদের অভিযোগে তদন্ত শুরু
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর-এর নির্দেশনা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস লালমনিরহাট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, লালমনিরহাট কার্যালয়ের স্মারক নং-জেপ্রাশিঅ/লাল/২০২৬/১৯০৫(৬), তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ অনুযায়ী এ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তাপসী বাবেয়া, সহকারী শিক্ষক, দাঁডার পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উলিপুর, কুড়িগ্রাম এবং মোঃ আশরাফুল আলম মিয়া, সহকারী শিক্ষক, নেফড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উলিপুর, কুড়িগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাব ও অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
স্মারকে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নং-৩৮.০১.০০০.৩০০.২৭.৬৭.২৫-০৫, তারিখ: ০৫/০২/২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ-এর নির্দেশনার আলোকে অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সে অনুযায়ী ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, সকাল ১১.০০ ঘটিকায় উপজেলা শিক্ষা অফিস, উলিপুর, কুড়িগ্রামে তদন্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেন। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে বলে জানা গেছে।
তদন্ত চলাকালীন সময়ে তদন্ত কক্ষের বাহিরে অনেক শিক্ষকসহ বহিরাগত কিছু লোক দেখা গেছে হট্রগোল করতে। এসময় অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান অভিযোগকারীকে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করার কথা জানান একাধিক শিক্ষক । পরে অভিযোগকারী মোঃ আশরাফুল আলম মিয়া বিভিন্ন হুমকি বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তাকে অবগত করান সেসময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নার্গিস ফাতিমা তোকদার উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার মো. তাজুল ইসলাম মন্ডল জানান, এই তদন্ত বিষয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না তবে তিনি বলেন অভিযোগের সত্যতা যাচাই, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।এ ঘটনায় শিক্ষক মহল ও স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন সবার নজর।
উলিপুরে শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা নিয়ে বরাদ্দ ফেরত ও অর্থ বিতরণে অসঙ্গতির অভিযোগ
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ডাকযোগে গত ২৪ জানুয়ারী/২৬ লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নামে প্রায় এক কোটি টাকা শ্রান্তি বিনোদন ভাতা বরাদ্দ আসে। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ওই অর্থ শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় সম্পূর্ণ অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত যায় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে পুনরায় শিক্ষকদের জন্য শ্রান্তি বিনোদন ভাতার অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এবার অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ শিক্ষকের মূল বেতনের চেয়ে কম বা বেশি এবং কিছু ক্ষেত্রে দ্বৈত (ডাবল) হিসাব দেখিয়ে অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে শিক্ষক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ নার্গিস ফাতিমা তোকদার এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর পূর্বে কর্মরত) মোঃ হাবিবুর রহমান-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ভাতা প্রদানে এ ধরনের অসঙ্গতির কারণে শিক্ষক সমাজের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অভিযোগ, ভাতার অর্থ নির্ধারণ ও বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। ফলে প্রকৃৃত প্রাপ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যেসব শিক্ষকের ক্ষেত্রে কম বা বেশি অর্থ দেখানো হয়েছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি জানান ভুলবসত কম-বেশি হতে পারে তবে কাউকে শ্রান্তি বিনোদনের ভাতা ডাবল দেয়া হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ নার্গিস ফাতিমা তোকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না অফিসে আসেন, ব্যস্ত আছি বলে মোবাইল কল কেটে দেন।
বিভাগীয় সহকারী পরিচালক মো: আমিনুল ইসলাম মন্ডল মুঠোফোনে বলেন অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উলিপুরে ভাগিনার লাঠির আঘাতে মামার মৃত্যু
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাগিনার লাঠির আঘাতে খায়রুল হক (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভাগিনাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের কালপানি বজরা গ্রামের টিটমারপাড় এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পারিবারিক বিরোধের জেরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ভাগিনা আনিছুর রহমান (৪৮) তার মামা খায়রুল হকের মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আহত খায়রুল হককে উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে উলিপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে বজরা ইউনিয়নের কালপানি বজরা এলাকা থেকে অভিযুক্ত ভাগিনা আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বাঁশের লাঠিও উদ্ধার করা হয়।
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে শুক্রবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সংবাদদাতা: রফিকুল ইসলাম রফিক
উলিপুরে আশার প্রদীপ মহিলা সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
ইসিতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত ৪ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুড়িগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন,
“মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলাম। আপিল শুনানি শেষে আমার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এজন্য নির্বাচন কমিশনসহ আমার নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৪ জন। এর মধ্যে
পুরুষ ভোটার: ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩২ জন
নারী ভোটার: ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০২ জন
ভুট্টা ক্ষেত থেকে বিলুপ্তপ্রায় ভারতীয় ময়ূর উদ্ধার, বনবিভাগে হস্তান্তর
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে বিলুপ্তপ্রায় একটি ভারতীয় ময়ূর উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের দেলদারগঞ্জ এলাকায়।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে ময়ূরটি উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে দেলদারগঞ্জ এলাকার একটি ভুট্টা ক্ষেতে বিলুপ্তপ্রায় পাঁচটি ময়ূর উড়ে এসে বসে। এ সময় স্থানীয় লোকজন ময়ূরগুলো ধরতে তাড়া দিলে উড়ে যাওয়ার সময় একটি ময়ূর ভুট্টা ক্ষেতের জালে আটকে যায়। পরে সাদ্দাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি ময়ূরটিকে ধরে নিজের বাড়িতে নিয়ে রাখেন।
বনবিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের হিমালয় অঞ্চল থেকে পাঁচটি ময়ূর উড়ে উলিপুরের দেলদারগঞ্জ এলাকায় আসে। পরে একটি ময়ূর অসুস্থ অবস্থায় সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে আটকে রাখার খবর পেয়ে বনবিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে যান। তবে প্রথমে ওই পরিবারের সদস্যরা ময়ূরটি হস্তান্তরে অনীহা প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে জানানো হলে থানা-পুলিশ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম মেহেদী হাসান এবং উপজেলা বন কর্মকর্তা ফজলুল হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ময়ূরটিকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃত ময়ূরটিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রংপুর বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসা ও সংরক্ষণের জন্য ঢাকার বনবিভাগের কাছে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম মেহেদী হাসান বলেন, “একটি বিলুপ্তপ্রায় ভারতীয় ময়ূর উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী কেউ যেন আটক বা ক্ষতি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।”
#অনলাইন ডেক্স,
হাদী হত্যাকান্ডের ঘটনায় উলিপুরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুম্মার নামাজের পর মসজিদুল হুদা মোড় হতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ইনকিলাব মঞ্চ উলিপুরের ব্যানারে মসজিদুল হুদা মোড়ে অবস্থান কর্মসুচি পালন করা হয়। এতে ছাত্র নেতা আব্দুল্লাহ আল ফারাবী, যুব নেতা নাজমুল হক সহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। বক্তরা হাদী হত্যাকান্ডে ভারতে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়ে খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে ভারতীয় সব পণ্য বর্জন করার আহবান জানান।
উলিপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উলিপুর বিজয় মঞ্চে অবস্থিত স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান, উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিকসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় উলিপুর মিনি স্টেডিয়াম মাঠে আকাশে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে প্যারেড কমান্ডার সাব-ইন্সপেক্টর আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় পতাকায় সম্মান প্রদর্শন ও সশস্ত্র সালাম প্রদান করা হয়। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান শেষে দুপুরে উলিপুর উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় তাঁদের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল), মধ্যাহ্নভোজ এবং রজনীগন্ধা ফুলের স্টিক তুলে দেওয়া হয়। পরে উলিপুর বিজয় মঞ্চে বিজয়মালা উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসানসহ উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উলিপুর উপজেলায় মহান বিজয় দিবসের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
উলিপুরে প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছাত্তারের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা
কম্পিউটার শিক্ষক ফজলুর রহমানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহমেদ ফারুক। এসময় বক্তব্য রাখেন, সহকারী শিক্ষক গোলজার হোসেন, জিতেন্দ্র নাথ রায়, এহছানুল করিম প্রিন্স, প্রাক্তন শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান রাজু, সাজাদুল ইসলাম সাজু, রায়হানুল ইসলাম রনি, শিক্ষার্থী রাদিয়া বশরি, ইশফাত জান্নাত পাখি, লাবিব হাসান, মোহনা আক্তার প্রমুখ। প্রধান শিক্ষকের বিদায়ী মানপত্র পাঠ করেন সহকারী শিক্ষক মুক্তাজাহান।
অনুষ্ঠানে প্রিয় শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট, উপহার এবং সম্মাননা স্মারক দিয়ে বিদায় জানান সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। উপস্থিত সকলে অশ্রুসজল নয়নে প্রিয় প্রধান শিক্ষককে বিদায় জানান। জীবনের শেষ কর্মদিবসে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রিয় শিক্ষককে কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় সুসজ্জিত এক কার গাড়িতে। গাড়িতে ওঠার সময় বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুল ছিটিয়ে ও ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়।আব্দুস ছাত্তার ১৯৯৬ সালের ২ জুলাই নারিকেল বাড়ী পন্ডিত মহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২৮ নভেম্বর ছিল তার শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সবার হৃদয়ে জায়গা করে নেন।
বিদায় মুহূর্তে সবাই বলেন, ‘স্যার ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণার মানুষ, শিক্ষাক্ষেত্রে আব্দুস ছাত্তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার অবসর জনিত বিদায় বিদ্যালয়ের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) সৈয়দ আহমেদ ফারুক বলেন, ‘আব্দুস ছাত্তার ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও (দায়িত্বশীল শিক্ষক। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের এসেছে বহু সাফল্য। তাঁকে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করব।’
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছাত্তার বলেন, ১৯৯৬ সালের ২ জুলাই থেকে এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ২৮ নভেম্বর ছিল আমার শেষ কর্মদিবস। বিদ্যালয় ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এই বিরল সম্মান পেয়ে আমি অভিভূত। জীবনে অনেক কঠিন সময় পার করেছি, তবু সততা ও ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করে আজ তার পরিসমাপ্তি হলো। এই বিদ্যালয় আমার জীবনের গর্বের অধ্যায়। সবার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কারণেই আজকের এই দিন সম্ভব হয়েছে। আমি দোয়া করি, এ এলাকার সন্তানরা যেন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে। সবাই দোয়া করবেন অবসর সময়টা যেন পরিবারকে নিয়ে সুন্দরভাবে কাটাতে পারি।
উলিপুরের পাগলা হোটেল মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য এক আশ্রয়স্থল
হোটেলটির মালিক রনজু মিয়া ছোটবেলা থেকেই অন্যদের কষ্টে ভোগার দৃশ্য দেখে তার মধ্যে মানবিক অনুভূতি জাগ্রত হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসহায় মানুষদের প্রতি তার এক বিশেষ সহানুভূতি ছিল। নিজের ছোট্ট খাবারের হোটেলটি খুলে, রনজু শুরু করেন এক দৃষ্টান্তমূূলক উদ্যোগ এখানে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষরা বিনামূূল্যে খাবার পাবেন।
এই উদ্যোগটি ধীরে ধীরে এলাকাবাসীর মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং তাদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে 'পাগলা হোটেল' নামটি। আজ এটি শুধু একটি খাবারের দোকান নয়, বরং সেখানকার প্রতিটি খাবারের টুকরা হয়ে ওঠে এক টুকরা মানবতা। প্রায় এক বছর ধরে প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই হোটেলে ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা থাকে। আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ এখানে আসেন এবং রনজু মিয়া নিজেই তাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করে পরিবেশন করেন।
এলাকার বাসিন্দারা মনে করেন, যেখানে সবাই নিজেদের স্বার্থের পেছনে ছুটছে, সেখানে রনজু মিয়ার এই উদ্যোগ আমাদের মনে মানবিকতার উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়েছে। তার এই অসাধারণ উদ্যোগ শুধু খাবার নয়, শিখিয়েছে মানুষকে সহানুভূতির প্রকৃত অর্থ। রনজু মিয়া নিজের বিশ্বাসে দৃঢ় যে, “মানুষকে ভালোবাসার মধ্েেযই জীবনের আসল শান্তি নিহিত রয়েছে। তার মতে, সমাজের বঞ্চিত ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
‘পাগলা হোটেল’ এ শুধুমাত্র খাবার নয়, মানুষ সেখানে অনুভব করে এক অবর্ণনীয় ভালোবাসা ও সহানুভূতির ছোঁয়া। রনজু মিয়ার এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার এক চমৎকার উদাহরণ। এই উদ্যোগ এক নতুন আলোর পথ দেখাচ্ছে, যেখানে মানুষের জন্য মানবতা এখনও অটুট রয়েছে।
উলিপুরে মহারাণী স্বর্ণময়ীর ১২৮তম প্রয়াণ দিবসে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত
কুড়িগ্রামের উলিপুরে মহারাণী স্বর্ণময়ীর ১২৮তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের চৌমহনী বাজারে ছুটিরপাতা সাহিত্য পত্রিকার আয়োজনে পত্রিকার কার্যালয়ে এ সভা হয়।
সভায় ছুটিরপাতা সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক তানভীরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও ইতিহাস গবেষক আবু হেনা মুস্তফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উলিপুর মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক নগেন্দ্র নাথ সরকার ও অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার জাবেদ আলী।
বক্তারা বলেন, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও দানশীলতায় মহারাণী স্বর্ণময়ী ছিলেন এক উজ্জ্বল প্রতীক। উলিপুরের শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা ও নগরায়ণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। অথচ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা না হওয়া দুঃখজনক।
স্মরণসভায় তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে মহারাণী স্বর্ণময়ীর প্রয়াণ দিবস স্মরণে ছুটিরপাতা সাহিত্য পত্রিকার নবম বর্ষের প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়
হরিপুর-চিলমারী সংযোগ সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত মাওলানা ভাসানী সেতু উদ্বোধন
উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধন হলো গাইবান্ধার হরিপুর-চিলমারী সংযোগ সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত মাওলানা ভাসানী সেতু ।
বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে গাইবান্ধায় এসে সেতুটির ফলক উন্মোচন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরে দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবং ফিতা কেটে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এলজিইডি কর্মকর্তা, সেতু নির্মাণ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেতুর উভয়পাড়ে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকালে থেকেই দুই জেলার মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ভিড় জমান ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সৌদি সরকারের অর্থায়নে এবং চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে ৮০ কিলোমিটার এক্সেস সড়ক, ৫৮টি বক্স কালভার্ট ও ৯টি আরসিসি সেতু। এটি দেশের ইতিহাসে এলজিইডির সবচেয়ে বড় প্রকল্প।
২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দীর্ঘ এক দশক অপেক্ষার পর আজ স্বপ্ন পূরণ হলো উত্তরাঞ্চলের মানুষের।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সেতুটি চালু হওয়ার ফলে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা ও শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান ও পর্যটনেও যুক্ত হবে নতুন মাত্রা।