শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুম্মার নামাজের পর মসজিদুল হুদা মোড় হতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ইনকিলাব মঞ্চ উলিপুরের ব্যানারে মসজিদুল হুদা মোড়ে অবস্থান কর্মসুচি পালন করা হয়। এতে ছাত্র নেতা আব্দুল্লাহ আল ফারাবী, যুব নেতা নাজমুল হক সহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। বক্তরা হাদী হত্যাকান্ডে ভারতে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়ে খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে ভারতীয় সব পণ্য বর্জন করার আহবান জানান।
উলিপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উলিপুর বিজয় মঞ্চে অবস্থিত স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান, উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিকসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় উলিপুর মিনি স্টেডিয়াম মাঠে আকাশে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে প্যারেড কমান্ডার সাব-ইন্সপেক্টর আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় পতাকায় সম্মান প্রদর্শন ও সশস্ত্র সালাম প্রদান করা হয়। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান শেষে দুপুরে উলিপুর উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় তাঁদের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল), মধ্যাহ্নভোজ এবং রজনীগন্ধা ফুলের স্টিক তুলে দেওয়া হয়। পরে উলিপুর বিজয় মঞ্চে বিজয়মালা উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসানসহ উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উলিপুর উপজেলায় মহান বিজয় দিবসের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
উলিপুরে প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছাত্তারের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা
কম্পিউটার শিক্ষক ফজলুর রহমানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহমেদ ফারুক। এসময় বক্তব্য রাখেন, সহকারী শিক্ষক গোলজার হোসেন, জিতেন্দ্র নাথ রায়, এহছানুল করিম প্রিন্স, প্রাক্তন শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান রাজু, সাজাদুল ইসলাম সাজু, রায়হানুল ইসলাম রনি, শিক্ষার্থী রাদিয়া বশরি, ইশফাত জান্নাত পাখি, লাবিব হাসান, মোহনা আক্তার প্রমুখ। প্রধান শিক্ষকের বিদায়ী মানপত্র পাঠ করেন সহকারী শিক্ষক মুক্তাজাহান।
অনুষ্ঠানে প্রিয় শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট, উপহার এবং সম্মাননা স্মারক দিয়ে বিদায় জানান সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। উপস্থিত সকলে অশ্রুসজল নয়নে প্রিয় প্রধান শিক্ষককে বিদায় জানান। জীবনের শেষ কর্মদিবসে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রিয় শিক্ষককে কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় সুসজ্জিত এক কার গাড়িতে। গাড়িতে ওঠার সময় বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুল ছিটিয়ে ও ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়।আব্দুস ছাত্তার ১৯৯৬ সালের ২ জুলাই নারিকেল বাড়ী পন্ডিত মহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২৮ নভেম্বর ছিল তার শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সবার হৃদয়ে জায়গা করে নেন।
বিদায় মুহূর্তে সবাই বলেন, ‘স্যার ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণার মানুষ, শিক্ষাক্ষেত্রে আব্দুস ছাত্তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার অবসর জনিত বিদায় বিদ্যালয়ের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) সৈয়দ আহমেদ ফারুক বলেন, ‘আব্দুস ছাত্তার ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও (দায়িত্বশীল শিক্ষক। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের এসেছে বহু সাফল্য। তাঁকে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করব।’
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছাত্তার বলেন, ১৯৯৬ সালের ২ জুলাই থেকে এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ২৮ নভেম্বর ছিল আমার শেষ কর্মদিবস। বিদ্যালয় ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এই বিরল সম্মান পেয়ে আমি অভিভূত। জীবনে অনেক কঠিন সময় পার করেছি, তবু সততা ও ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করে আজ তার পরিসমাপ্তি হলো। এই বিদ্যালয় আমার জীবনের গর্বের অধ্যায়। সবার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কারণেই আজকের এই দিন সম্ভব হয়েছে। আমি দোয়া করি, এ এলাকার সন্তানরা যেন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে। সবাই দোয়া করবেন অবসর সময়টা যেন পরিবারকে নিয়ে সুন্দরভাবে কাটাতে পারি।
উলিপুরের পাগলা হোটেল মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য এক আশ্রয়স্থল
হোটেলটির মালিক রনজু মিয়া ছোটবেলা থেকেই অন্যদের কষ্টে ভোগার দৃশ্য দেখে তার মধ্যে মানবিক অনুভূতি জাগ্রত হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসহায় মানুষদের প্রতি তার এক বিশেষ সহানুভূতি ছিল। নিজের ছোট্ট খাবারের হোটেলটি খুলে, রনজু শুরু করেন এক দৃষ্টান্তমূূলক উদ্যোগ এখানে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষরা বিনামূূল্যে খাবার পাবেন।
এই উদ্যোগটি ধীরে ধীরে এলাকাবাসীর মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং তাদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে 'পাগলা হোটেল' নামটি। আজ এটি শুধু একটি খাবারের দোকান নয়, বরং সেখানকার প্রতিটি খাবারের টুকরা হয়ে ওঠে এক টুকরা মানবতা। প্রায় এক বছর ধরে প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই হোটেলে ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা থাকে। আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ এখানে আসেন এবং রনজু মিয়া নিজেই তাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করে পরিবেশন করেন।
এলাকার বাসিন্দারা মনে করেন, যেখানে সবাই নিজেদের স্বার্থের পেছনে ছুটছে, সেখানে রনজু মিয়ার এই উদ্যোগ আমাদের মনে মানবিকতার উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়েছে। তার এই অসাধারণ উদ্যোগ শুধু খাবার নয়, শিখিয়েছে মানুষকে সহানুভূতির প্রকৃত অর্থ। রনজু মিয়া নিজের বিশ্বাসে দৃঢ় যে, “মানুষকে ভালোবাসার মধ্েেযই জীবনের আসল শান্তি নিহিত রয়েছে। তার মতে, সমাজের বঞ্চিত ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
‘পাগলা হোটেল’ এ শুধুমাত্র খাবার নয়, মানুষ সেখানে অনুভব করে এক অবর্ণনীয় ভালোবাসা ও সহানুভূতির ছোঁয়া। রনজু মিয়ার এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার এক চমৎকার উদাহরণ। এই উদ্যোগ এক নতুন আলোর পথ দেখাচ্ছে, যেখানে মানুষের জন্য মানবতা এখনও অটুট রয়েছে।
উলিপুরে মহারাণী স্বর্ণময়ীর ১২৮তম প্রয়াণ দিবসে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত
কুড়িগ্রামের উলিপুরে মহারাণী স্বর্ণময়ীর ১২৮তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের চৌমহনী বাজারে ছুটিরপাতা সাহিত্য পত্রিকার আয়োজনে পত্রিকার কার্যালয়ে এ সভা হয়।
সভায় ছুটিরপাতা সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক তানভীরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও ইতিহাস গবেষক আবু হেনা মুস্তফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উলিপুর মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক নগেন্দ্র নাথ সরকার ও অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার জাবেদ আলী।
বক্তারা বলেন, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও দানশীলতায় মহারাণী স্বর্ণময়ী ছিলেন এক উজ্জ্বল প্রতীক। উলিপুরের শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা ও নগরায়ণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। অথচ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা না হওয়া দুঃখজনক।
স্মরণসভায় তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে মহারাণী স্বর্ণময়ীর প্রয়াণ দিবস স্মরণে ছুটিরপাতা সাহিত্য পত্রিকার নবম বর্ষের প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়
উলিপুরে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
উলিপুর উন্নয়ন ফোরামের আয়োজনে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এবং কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) উলিপুর এমএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহেদী, মাওলানা মশিউর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ, তাদের সততা ও সেবামূলক মনোভাব গড়ার আহ্বান জানানো হয়। বিকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উলিপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিল্লুর রহমান, উলিপুর উপজেলা আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষক মোঃ রফিক আহমেদ। উলিপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ হায়দার আলী মিয়া, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মতলেবুর রহমান মঞ্জু সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসময় উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে’ দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। উলিপুরেও সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে কয়েকদিনব্যাপী বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনের এক পর্যায়ে পুলিশি হামলায় তিনজন ছাত্র শহীদ হন, যাঁরা আজও উলিপুরবাসীর হৃদয়ে বেঁচে আছেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ইউএনও নয়ন কুমার সাহা বলেন, “এই শহীদরা ছিলেন আমাদের দেশের সামাজিক ন্যায়ের জন্য লড়াই করা প্রথম প্রজন্মের অংশ। তাঁদের আত্মত্যাগ আজও আমাদের আন্দোলনের অনুপ্রেরণা।”
স্থানীয়রা জানান, এই শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে আরও বৃহৎ পরিসরে স্মরণসভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানাতে পাঠ্যপুস্তক ও গণমাধ্যমে তাদের অবদানের উল্লেখ রাখার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদক- শাহাজাহান খন্দকার
উলিপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ২৬৩ জনকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান
প্রতিবেদক- শাহাজাহান খন্দকার
ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ মানুষের ভোটের অধিকার ও গনতন্ত্র ধ্বংস করেছে : উলিপুরে কৃষকদলের সভায় আব্দুল খালেক
ফিরোজ কবীর কাজল, উলিপুরঃ “ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ছিলো বাংলাদেশের ফেরাউন। বিনা ভোটে ক্ষমতায় ছিল হাসিনা। ২০৪১সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চেয়ে ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ভারতে পালিয়েছে হাসিনা।
শুক্রবার(২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কৃষকদল ও মৎস্যজীবী দলের পরিচিতি সভা ও বিএনপি'র ৩১দফা লিফলেট বিতরণ কর্মসুচিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি'র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আব্দুল খালেক প্রধান অতিথি উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকারের দোসররা এখন নতুন করে চক্রান্ত করছে। নতুন করে হামলার অপেক্ষায় আছে। এদের প্রতিহত করতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন তিনি। খাল ও নদী খনন করে কৃষকের জন্য সেচের ব্যবস্থা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দিয়েছেন। বিএনপি শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া ফ্রি (বিনামুল্যে) করে দিয়েছিলো।
তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। হাসিনার আমলে রাজাকার হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা। আওয়ামীলীগ মানুষের ভোটের অধিকার ও গনতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। বিগত ১৬ বছরে বিএনপি'র হাজার হাজার নেতা-কর্মী খুন, গুম ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা কৃষকদলের আহবায়ক রিপন রহমান, যুগ্ম আহবায়ক আবু জাফর সোহেল রানা, সাবেক ছাত্রনেতা ফিরোজ কবীর কাজল, উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক আব্দুর রহমান রাজু, সদস্য সচিব ফাজকুরুনী আহমেদ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খাইরুল ইসলাম, পৌর বিএনপি'র সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মতলেবুর রহমান মঞ্জু সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান, পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ক্ষতিগ্রস্তদের
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই বাজারে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জাহিদুলসহ আরও কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী।
এই দুর্দিনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় সেবামূলক সংগঠন উলিপুর উন্নয়ন ফোরাম। তাদের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
শুক্রবার(১৮ জুলাই) সকালে আয়োজিত সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্লাবন ও জামায়াতের থেতরাই ইউনিয়ন সভাপতি মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উলিপুর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন,“মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ানোই মানবতার আসল পরিচয়। আমরা চেষ্টার ত্রুটি রাখছি না যেন ক্ষতিগ্রস্তরা আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।”
স্থানীয়রা জানান, এই সহায়তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তরা নতুন করে ব্যবসা শুরুর সাহস পাচ্ছেন এবং এতে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
উলিপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক
রোববার (১৩ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে রংপুর অঞ্চলের ৭২ পদাতিক ব্রিগেডের অধীনস্থ ২২ বীরের একটি টহল দল। সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম সেনা ক্যাম্পের মেজর শাহারিয়ার আহাদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটককৃতরা হলেন—উপজেলার দক্ষিণ মধুপুর গ্রামের মৃত মহসিন আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এবং কাশিয়াগানি গ্রামের একাব্বর আলীর ছেলে রেজাউল করিম।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উক্ত দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। তাদের দেহ তল্লাশিতে ১২৮ পিস ইয়াবা, নগদ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে মেজর শাহারিয়ার আহাদ বলেন, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও মাদক ও অপরাধ দমনে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ মাদকবিরোধী লড়াইকে আরও গতিশীল করবে এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে বড় ভূমিকা রাখবে।
উলিপুরে তারুণ্যের ঐক্য সমাজকল্যাণ সোসাইটির কমিটি ঘোষণা
উলিপুর উপজেলার সেচ্ছাসেবী সংগঠন তারুণ্যের ঐক্য সমাজকল্যাণ সোসাইটি তরুণ-যুবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় "এসো মিলি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে, আমাদের একতা দেশের কল্যাণে" এই স্লোগানে ২০১৯ খ্রি. প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন সামাজিক, সচেতনমূলক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি । উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বেশ জোরালো ভাবে সেবামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গতানুগতিক ধারায় আগানোর নিমিত্তে সৃজনশীল নেতৃত্বে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে পূর্বের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে ১৩/০৬/২০২৫ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়া পপুলার মডেল স্কুল মাঠে বিকেল ৪ ঘটিকায় এক বর্ধিত আলোচনা সভায় তারুণ্যের ঐক্য সমাজকল্যাণ সোসাইটির নির্বাহী কমিটি আগামী ৩ বছরের জন্য গঠন করা হয় এতে সামছুল আলম কে সভাপতি, ফজলুল হক কে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মোহেব্বুল হাসান কে সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মাহমুদুল হাসান কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ১৩ জুন ২০২৫ ইং সংগঠনটির প্যাডে কমিটির সভাপতি সামছুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহেব্বুল হাসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাধারণ সম্পাদক মোহেব্বুল হাসান।
সদ্য দায়িত্ব প্রাপ্ত সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলুল হক বলেন সবার মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সকলের অকুণ্ঠ সমর্থনে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন তাঁদেরকে জানাই অভিনন্দন। বিশেষ ধন্যবাদ জানাই যাঁরা আমাদেরকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছেন । নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সহিত সকলের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে সাংগঠনিক অবকাঠামোর উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার চেষ্টা করবো ।
সদ্য সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান বলেন নব-নির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন। নির্বাচিত কমিটিতে সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলমকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বশীল হিসেবে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে যাঁর ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। সবার প্রত্যাশার জায়গা থেকে সৃজনশীল নেতৃত্বে আগামীতে আরও সু-সংগঠিত হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম বেশ জোরালো ভাবে এগিয়ে নিয়ে সংগঠনকে সেরাটা উপহার দিবে ইনশাআল্লাহ ।