কুড়িগ্রামের উলিপুরে অবসরজনিত বিদায় নিলেন
নারিকেল বাড়ী পন্ডিত মহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস
ছাত্তার। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৯ বছরের শিক্ষক জীবনের ইতি
টেনে তিনি অবসরে গেলেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ
থেকে এক আবেগঘন বিদায় আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ কর্মদিবস পালন করেন প্রধান
শিক্ষক আব্দুস ছাত্তার। বিদ্যালয়ের সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও
এলাকাবসীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় বিদায় সংবর্ধনা।
কম্পিউটার শিক্ষক ফজলুর রহমানের সঞ্চালনায়
সভাপতিত্ব করেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহমেদ ফারুক। এসময় বক্তব্য
রাখেন, সহকারী শিক্ষক গোলজার হোসেন, জিতেন্দ্র নাথ রায়, এহছানুল করিম
প্রিন্স, প্রাক্তন শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান রাজু, সাজাদুল ইসলাম সাজু,
রায়হানুল ইসলাম রনি, শিক্ষার্থী রাদিয়া বশরি, ইশফাত জান্নাত পাখি, লাবিব
হাসান, মোহনা আক্তার প্রমুখ। প্রধান শিক্ষকের বিদায়ী মানপত্র পাঠ করেন
সহকারী শিক্ষক মুক্তাজাহান।
অনুষ্ঠানে প্রিয় শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা,
বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট, উপহার এবং সম্মাননা স্মারক দিয়ে বিদায়
জানান সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। উপস্থিত সকলে অশ্রুসজল নয়নে প্রিয় প্রধান
শিক্ষককে বিদায় জানান। জীবনের শেষ কর্মদিবসে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও
এলাকাবাসী প্রিয় শিক্ষককে কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়
সুসজ্জিত এক কার গাড়িতে। গাড়িতে ওঠার সময় বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুল
ছিটিয়ে ও ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়।আব্দুস ছাত্তার ১৯৯৬ সালের ২
জুলাই নারিকেল বাড়ী পন্ডিত মহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
হিসেবে যোগদান করেন। ২৮ নভেম্বর ছিল তার শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘ কর্মজীবনে
তিনি সবার হৃদয়ে জায়গা করে নেন।
বিদায় মুহূর্তে সবাই বলেন, ‘স্যার ছিলেন
আমাদের অনুপ্রেরণার মানুষ, শিক্ষাক্ষেত্রে আব্দুস ছাত্তার অবদান স্মরণীয়
হয়ে থাকবে। তার অবসর জনিত বিদায় বিদ্যালয়ের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব)
সৈয়দ আহমেদ ফারুক বলেন, ‘আব্দুস ছাত্তার ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও
(দায়িত্বশীল শিক্ষক। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের এসেছে বহু সাফল্য।
তাঁকে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করব।’
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছাত্তার
বলেন, ১৯৯৬ সালের ২ জুলাই থেকে এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব
পালন করে আসছি। ২৮ নভেম্বর ছিল আমার শেষ কর্মদিবস। বিদ্যালয় ও এলাকাবাসীর
পক্ষ থেকে এই বিরল সম্মান পেয়ে আমি অভিভূত। জীবনে অনেক কঠিন সময় পার করেছি,
তবু সততা ও ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করে আজ তার পরিসমাপ্তি হলো। এই
বিদ্যালয় আমার জীবনের গর্বের অধ্যায়। সবার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কারণেই
আজকের এই দিন সম্ভব হয়েছে। আমি দোয়া করি, এ এলাকার সন্তানরা যেন শিক্ষার
আলোয় আলোকিত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে। সবাই দোয়া করবেন অবসর
সময়টা যেন পরিবারকে নিয়ে সুন্দরভাবে কাটাতে পারি।