হরিপুর-চিলমারী সংযোগ সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত মাওলানা ভাসানী সেতু উদ্বোধন
উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধন হলো গাইবান্ধার হরিপুর-চিলমারী সংযোগ সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত মাওলানা ভাসানী সেতু ।
বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে গাইবান্ধায় এসে সেতুটির ফলক উন্মোচন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরে দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবং ফিতা কেটে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এলজিইডি কর্মকর্তা, সেতু নির্মাণ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেতুর উভয়পাড়ে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকালে থেকেই দুই জেলার মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ভিড় জমান ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সৌদি সরকারের অর্থায়নে এবং চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে ৮০ কিলোমিটার এক্সেস সড়ক, ৫৮টি বক্স কালভার্ট ও ৯টি আরসিসি সেতু। এটি দেশের ইতিহাসে এলজিইডির সবচেয়ে বড় প্রকল্প।
২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দীর্ঘ এক দশক অপেক্ষার পর আজ স্বপ্ন পূরণ হলো উত্তরাঞ্চলের মানুষের।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সেতুটি চালু হওয়ার ফলে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা ও শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান ও পর্যটনেও যুক্ত হবে নতুন মাত্রা।
উলিপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিল্লুর রহমান, উলিপুর উপজেলা আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষক মোঃ রফিক আহমেদ। উলিপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ হায়দার আলী মিয়া, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মতলেবুর রহমান মঞ্জু সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসময় উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে’ দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। উলিপুরেও সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে কয়েকদিনব্যাপী বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনের এক পর্যায়ে পুলিশি হামলায় তিনজন ছাত্র শহীদ হন, যাঁরা আজও উলিপুরবাসীর হৃদয়ে বেঁচে আছেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ইউএনও নয়ন কুমার সাহা বলেন, “এই শহীদরা ছিলেন আমাদের দেশের সামাজিক ন্যায়ের জন্য লড়াই করা প্রথম প্রজন্মের অংশ। তাঁদের আত্মত্যাগ আজও আমাদের আন্দোলনের অনুপ্রেরণা।”
স্থানীয়রা জানান, এই শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে আরও বৃহৎ পরিসরে স্মরণসভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানাতে পাঠ্যপুস্তক ও গণমাধ্যমে তাদের অবদানের উল্লেখ রাখার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদক- শাহাজাহান খন্দকার
বারবার বদলাচ্ছে উদ্বোধনের তারিখ: হতাশ উত্তরের জনপদের মানুষ
উত্তরের জনপদের বহু প্রতীক্ষিত হরিপুর–চিলমারী তিস্তা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি এর উদ্বোধন। বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে তারিখ। সর্বশেষ নতুন করে ঘোষণা করা হয়েছে ২৫ আগস্ট। ফলে উদ্বোধনের প্রহর গুনতে গুনতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত ২ আগস্ট (শনিবার) নির্ধারিত উদ্বোধনের তারিখ বাতিল করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিপ্তরের (এলজিইডি) গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী।
এর আগে, ১৩ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শামীম বেপারীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে ২ আগস্ট উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এমনকি গত ৪ জুলাই এলজিইডির সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী সেতু পরিদর্শনে এসে জুলাই মাসেই উদ্বোধনের পরিকল্পনার কথা জানান।
তবে ২ আগস্টের তারিখও বাতিল হওয়ার কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। এলজিইডির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও উপদেষ্টা মহোদয়ের ব্যস্ততাই তারিখ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হতে পারে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সৌদি সরকারের অর্থায়নে ও চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে ৮৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই সেতু। এটি দৈর্ঘ্যে ১,৪৯০ মিটার ও প্রস্থে ৯.৬ মিটার বিশিষ্ট, যা দেশের ইতিহাসে এলজিইডির সর্ববৃহৎ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সেতুকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সেস সড়ক, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৫৮টি বক্স কালভার্ট ও ৯টি আরসিসি সেতু। এই সড়কটি বেলকা বাজার, পাঁচপীর, হাট লক্ষ্মীপুর, ধর্মপুর, সাদুল্যাপুর ও ধাপেরহাটসহ প্রায় ১০টি বাজার ও মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করবে সুন্দরগঞ্জ ও চিলমারী অঞ্চলকে।
অনলাইনে আয়ের কৌশলসমূহ
১. ফ্রিল্যান্সিং
বিবরণ: নির্দিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করেও ঘরে বসে ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করে আয় করা।
প্ল্যাটফর্ম:
-
Upwork
-
Fiverr
-
Freelancer
-
PeoplePerHour
জনপ্রিয় কাজ:
-
গ্রাফিক ডিজাইন
-
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
-
কনটেন্ট রাইটিং
-
ভিডিও এডিটিং
-
ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স
২. অনলাইন টিউশনি এবং কোর্স তৈরি
বিবরণ: নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা শেয়ার করে অর্থ উপার্জনের একটি কার্যকর মাধ্যম।
প্ল্যাটফর্ম:
-
Udemy
-
Skillshare
-
Teachable
-
Zoom/Google Meet এর মাধ্যমে লাইভ ক্লাস
বিষয়:
-
ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞানের টিউশনি
-
প্রোগ্রামিং শেখানো
-
ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স
৩. ইউটিউব ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরি
বিবরণ: ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে ইউটিউব থেকে আয় করা যায় বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ ও অ্যাফিলিয়েট লিংকের মাধ্যমে।
আয়ের উপায়:
-
Google AdSense
-
Sponsorship
-
Affiliate marketing
-
Channel Membership
৪. ব্লগিং ও কনটেন্ট রাইটিং
বিবরণ: নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট লিখে ব্লগের মাধ্যমে আয় করা।
প্ল্যাটফর্ম:
-
WordPress
-
Blogger
-
Medium
আয়ের মাধ্যম:
-
Google AdSense
-
Sponsored Content
-
Affiliate Marketing
৫. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
বিবরণ: বিভিন্ন পণ্যের লিংক শেয়ার করে বিক্রয়ের মাধ্যমে কমিশন আয়।
প্ল্যাটফর্ম:
-
Amazon Associates
-
ClickBank
-
ShareASale
-
Daraz Affiliate (বাংলাদেশে)
৬. সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে আয়
বিবরণ: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা টুইটার-এ ফলোয়ার বাড়িয়ে স্পন্সরকৃত পোস্ট ও প্রোডাক্ট প্রমোশন করে আয়।
প্রয়োজনীয় দক্ষতা:
-
কনটেন্ট ক্রিয়েশন
-
মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি
-
ব্র্যান্ডিং
৭. ই-কমার্স ও ড্রপশিপিং
বিবরণ: নিজস্ব পণ্য বা তৃতীয় পক্ষের পণ্য অনলাইনে বিক্রি করে আয়।
প্ল্যাটফর্ম:
-
Shopify
-
Daraz
-
Facebook Shop
-
Etsy
ড্রপশিপিং সুবিধা:
-
নিজে স্টক না রেখেই বিক্রি করা
-
ঝুঁকি কম
৮. মোবাইল অ্যাপ ও গেম ডেভেলপমেন্ট
বিবরণ: নিজের তৈরি অ্যাপ/গেম Google Play Store বা App Store-এ প্রকাশ করে আয় করা যায়।
আয়ের উপায়:
-
বিজ্ঞাপন (AdMob)
-
ইন-অ্যাপ পারচেস
-
প্রিমিয়াম ভার্সন
৯. ডেটা এন্ট্রি ও মাইক্রো-টাস্ক
বিবরণ: সহজ কাজ যেমন ডেটা টাইপিং, রিভিউ লেখা, ওয়েবসাইট টেস্টিং ইত্যাদি করে আয়।
প্ল্যাটফর্ম:
-
Amazon Mechanical Turk
-
Clickworker
-
Microworkers
১০. অনলাইন স্টক/ক্রিপ্টো ট্রেডিং
বিবরণ: অনলাইন মার্কেটে শেয়ার বা ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা-বেচা করে আয় করা।
ঝুঁকি:
-
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ
-
ভালো বিশ্লেষণী দক্ষতা প্রয়োজন
প্ল্যাটফর্ম:
-
Binance
-
eToro
-
Coinbase
উপসংহার:
অনলাইন আয়ের সুযোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, সাফল্যের জন্য প্রয়োজন সময়, ধৈর্য ও দক্ষতা। প্রতারক থেকে সাবধান থাকা এবং নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের আগ্রহ ও দক্ষতার উপর ভিত্তি করে সঠিক কৌশল নির্বাচন করলে অনলাইনে আয় করা সহজ ও লাভজনক হতে পারে।
টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান, পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ক্ষতিগ্রস্তদের
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই বাজারে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জাহিদুলসহ আরও কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী।
এই দুর্দিনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় সেবামূলক সংগঠন উলিপুর উন্নয়ন ফোরাম। তাদের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
শুক্রবার(১৮ জুলাই) সকালে আয়োজিত সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্লাবন ও জামায়াতের থেতরাই ইউনিয়ন সভাপতি মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উলিপুর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন,“মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ানোই মানবতার আসল পরিচয়। আমরা চেষ্টার ত্রুটি রাখছি না যেন ক্ষতিগ্রস্তরা আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।”
স্থানীয়রা জানান, এই সহায়তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তরা নতুন করে ব্যবসা শুরুর সাহস পাচ্ছেন এবং এতে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
চিলমারীর জোড়গাছ হাটে সেনাবাহিনীর অভিযান, চাঁদাবাজি বন্ধের আশ্বাস
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাট ও ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কুড়িগ্রামের সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার নেতৃত্বে একটি টিম বুধবার চিলমারীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ জোড়গাছ হাট ও ঘাট পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের সময় গরু-ছাগল হাট, কাঁচাবাজার, তোহা ও চটি বাজারেও অভিযান চালানো হয়। চটি বাজারের বিক্রেতারা জানান, সেখানে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছিল। তবে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে আদায়কারীরা দ্রুত সরে পড়ে।
বিক্রেতা আব্দুল রউফ বলেন, “সেনাবাহিনী আসার পর থেকে অতিরিক্ত খাজনা নেওয়া বন্ধ হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আদায়কারী গা ঢাকা দিয়েছে।” অন্য ক্রেতা ও বিক্রেতারা আশা প্রকাশ করেন, অভিযান নিয়মিত চালানো হলে চাঁদাবাজির অভিযোগ আর থাকবে না এবং হাট তার পুরাতন ঐতিহ্য ফিরিয়ে পাবে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছেন, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং খুব শিগগিরই চিলমারীতে ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। অভিযান শুরু হওয়ায় এলাকার মানুষ আবারও নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার আশ্বাস পাচ্ছে।
রাজারহাটে ধান সংগ্রহে কৃষক বাছাই: লটারির মাধ্যমে ২৩৮ জন নির্বাচিত
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে চলতি ইরি-বোরো ধান ৮৫২ মেট্রিক টন সংগ্রহের প্রথম ধাপে লটারীর মাধ্যমে ২৩৮ জন কৃষক নির্বাচিত হয়েছেন। রোববার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অ্যাপসের মাধ্যমে উপজেলার ৬০৪ জন নির্ধারিত কৃষকের এনআইডি ব্যবহার করে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের নাম ঘোষণা করা হয়।
প্রতিজন কৃষক ৩ মেট্রিক টন করে ধান উপজেলা খাদ্য গুদামে সরবরাহ করবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ধান সরবরাহে ব্যর্থ হলে পুনরায় অ্যাপস লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্ধারণ করা হবে।
লটারির সময় উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোছা. মাসুদা বেগম, উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, এর আগে মিলারদের কাছ থেকে ১৯৫৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারীতে ভূমি মেলার উদ্বোধন, জমির কর বৃদ্ধি ও সুরক্ষায় গুরুত্ব
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ গোলাম ফেরদৌস তিন দিনব্যাপী ভূমি মেলার উদ্বোধন করেছেন। এবারের ভূমি মেলার স্লোগান হচ্ছে, "নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করি, নিজের জমি সুরক্ষিত রাখি"। এই স্লোগানকে সামনে রেখে ভূমি অফিস চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে উপজেলা চত্বর ঘুরে ভূমি অফিস চত্বরে এসে শেষ হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এই তিন দিনব্যাপী চলমান ভূমি মেলায় ভূমি মালিকদের জন্য বিশেষ সেবা প্রদান করা হবে।
ভূমি মেলায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ ফরিদুল হক শাহিন শিকদার এবং বিএনপির জাসাস কমিটির যুগ্ন আহবায়ক এস এম মহিবুল নাঈম সিমন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও অংশগ্রহণ করেন।
চেতনা ক্লাব ও পাঠাগারের দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে বর্ষবরণ ও সাংস্কৃতিক উৎসব
উলিপুরের চেতনা ক্লাব ও পাঠাগারের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ষবরণ, আলোচনা সভা ও এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ ১০ মে, শনিবার নতুন অনন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
চেতনা ক্লাব ও পাঠাগারের সভাপতি মোঃ সফিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার জনাব গোলাম মর্তুজা মুকুল, নির্বাহী পরিচালক, মরহুম ডাঃ বাবর উদ্দিন সরকার ফাউন্ডেশন ও সমাজসেবক, হাতিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় শিক্ষক ও সমাজসেবকগণ।
আলোচনা সভায় বক্তারা ক্লাব ও পাঠাগারের দুই দশকের শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আলোচনাশেষে অনুষ্ঠিত হয় এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা গান, নৃত্য ও নাটক পরিবেশন করেন।