Showing posts with label জাতীয়. Show all posts
Showing posts with label জাতীয়. Show all posts
ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বার্তা

ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বার্তা

 


 উলিপুর৭১ অনলাইন ডেক্স:

ক্রমশ ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে থাকা ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশবাসীর জন্য জরুরি এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বার্তায় নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পেছনে সপ্তাহে কমপক্ষে দুই দিন আধা ঘণ্টা করে সময় ব্যয় করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তাটি শেয়ার করা হয়েছে।
বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলা করুন, এডিস মশার জন্মস্থান ধ্বংস করুন।
তারেক রহমান বলেন, আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমি আপনাদের সামনে একটু আলাপ করতে চাই, একই সাথে আপনাদের সহযোগিতা দরকার এই সমস্যাটির কিছুটা হলেও সমাধান করার জন্য। আমরা একসাথে হয়েই ১৯৭১ সালে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। আমরা সকলে একসাথে ১৯৯০-এর সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকেও সফল করেছিলাম। আবার সকলস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকেও সফল করেছিলাম। আমরা যদি এতগুলো কাজ পারি, তাহলে কেন আমরা দেশের অন্য যে সকল সমস্যা আছে, সকলে মিলে যদি একটু একটু করে আমরা কন্ট্রিবিউট করি, একটু একটু করে যদি আমরা অংশগ্রহণ করি, কেন পারব না?
তিনি বলেন, আজকের যে বিষয়টি নিয়ে আমি আপনাদের সামনে আলাপ করতে চাই সেটি হচ্ছে ডেঙ্গু। আমরা পত্রিকার পাতা খুললেই প্রায় দেখি যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ মারা গিয়েছেন, বিভিন্ন মানুষ অসুস্থ হয়ে গিয়েছেন। যার আপনজনটি হারিয়ে গিয়েছে সেই কষ্টটা বুঝে। কিন্তু আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি, সকলে মিলে যদি একটু একটু করে এগিয়ে আসি, তাহলে অনেক মানুষকে আমরা সাহায্য করতে পারবো, এই আপনজন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করতে পারবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের যদি আমরা সংখ্যা বিবেচনা করি প্রায় আড়াই কোটির মতন। এর বাইরেও বিভিন্ন সংগঠন যেমন বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্ল গাইড, রেড ক্রিসেন্টের মেম্বার যারা আছেন, রেড ক্রসের মেম্বার যারা আছেন, আমরা যদি এগুলো বিবেচনা করি তাও প্রায় ৪০ লাখ। এই যে সদস্যগুলো, এরা গত প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশের সবগুলো জেলায়, উপজেলায় যতটুকু সম্ভব চারদিকে যে আবর্জনা-ময়লা সেটিকে কিছুটা হলেও যতটুকু সম্ভব পরিষ্কার করার জন্য। আমরা সকলেই জানি, আপনারাও প্রত্যেকে যারা দেখছেন এই ভিডিও কমবেশি সকলেই জানেন যে, এই ডেঙ্গুর যে এডিস মশা, এটির উৎপত্তিস্থল হচ্ছে কিন্তু জমে থাকা পানি। সেটি ঘরের আনাচে-কানাচে হোক, সেটি রাস্তার বিভিন্ন পথে-ঘাটে বিভিন্ন জায়গায় হোক, যে আনাচে-কানাচে পানি জমে আছে অথবা যেভাবে ময়লা ও বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকছে তার ফলে পানি জমে থাকছে, সেই পানিগুলোতে এই মশাগুলো জন্ম নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর একটি টিকা আবিষ্কার হয়েছে বৈকি, তবে বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে টিকাটা খুব বেশি কার্যকর নয়। ডেঙ্গু যদি কারো হয়, তার সেই রোগ সারাতে টিকাটা খুব বেশি কার্যকর নয়। সবচেয়ে বেশি কার্যকর হচ্ছে যে জন্মস্থল ডেঙ্গুর, অর্থাৎ বিভিন্ন জায়গায় যে জমে থাকা পানি বা জমে থাকা ময়লা, এটাকে পরিষ্কার করে ফেলতে যদি আমরা পারি তাহলেই সবচেয়ে বেশি আমরা সফল হবো ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করতে।
তারেক রহমান বলেন, আপনাদের কাছে আজকে আমার আহ্বান, আপনাদের কাছে আজকে যে সহযোগিতা আমি চাই— আসুন না, আমরা প্রত্যেকটি মানুষ, প্রত্যেকটি পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন করে যদি আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দেই আমাদের ঘর, ঘরের আশপাশে এবং আমাদের চলার পথে যেখানে ডেঙ্গু মশা জন্ম নিতে পারে, বংশবিস্তার করতে পারে, এই জায়গাগুলোকে আমরা পরিষ্কার করে ফেলি, যাতে করে ডেঙ্গু মশা বংশবিস্তার করতে না পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সরকার তখনই সফল হয় যখন সকলকে একসাথে নিয়ে কাজ করে দেশের জন্য। প্রিয় দেশবাসী, আমার সরকার, আমরা দেশের সকল মানুষকে নিয়ে একসাথে দেশের সমস্যার সমাধান করতে চাই। দেশের সমস্যার সমাধান মানে— আপনার, আমার, আমাদের সকলের সমস্যার সমাধান। আসুন, আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি। সকলে মিলে চেষ্টা করলে অবশ্যই আগামী দিনের এই ডেঙ্গুর অভিশাপ থেকে আমরা বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে পারব।
কুড়িগ্রামে ৫৬৭ মণ্ডপে দুর্গোৎসব, নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি

কুড়িগ্রামে ৫৬৭ মণ্ডপে দুর্গোৎসব, নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি

কুড়িগ্রামে ৫৬৭টি পূজামণ্ডপে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানজট নিরসন এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত হয়েছে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। সভায় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভায় মোট ৫৬৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হবে। উৎসব ঘিরে মণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা জোরদার, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান, বিজিবির ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক এস এ মাহাবুব উল আলম এবং এনএসআইয়ের উপপরিচালক আনিসুর রহমান।

রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব এবং জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন। গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন প্রশাসনের অগ্রাধিকার। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

 

 

হামের টিকা নিয়ে দোষীদের খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের টিকা নিয়ে দোষীদের খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

উলিপুর৭১ ডেস্ক: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমার সংকটকাল অতিক্রম করছি। হামের টিকা নিয়ে কে দোষ করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি

বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পোলিও ভ্যাকসিন গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো হলেও, সরকার এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বেশিরভাগ জেলাতেই টিকাদান শেষ হয়েছে। বাকি শিশুদেরকেও টিকার আওতায় আনা হবে।
এছাড়া, আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে।
হামের এই ভয়াবহ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠার পর, এমন সংকটময় পরিস্থিতির পেছনে কারা দায়ী, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা এবং ইপিআই কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে সরকারকে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে দিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন।
সময়মতো টিকা না দেওয়ায় সারা দেশেই হাম সংক্রমনের বলি হচ্ছে দেশের শিশুরা।
প্রশ্ন উঠেছে, যে রোগে মৃত্যু শূন্যে নেমেছিল, সেই রোগেই এত প্রাণ কেন যাচ্ছে? এ অবস্থায় চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো টিকার অভাবেই হাম সারাদেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন হামের পরেই অনেকের নিউমোনিয়া হয়ে যায়। ভেন্টিলেশনই এই রোগের শেষ চিকিৎসা। আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে সেই ভেন্টিলেশন দিয়েছি। আমাদের হাতে আজকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমেরিকা থেকে আরও দশটি ভেন্টিলেটর দান করেছে একজন বেসরকারি ফার্মাসিটিউক্যালস উদ্যাক্তা। আমরা সেগুলো আজকে বণ্টন করব।
আমাদের হামের চিকিৎসা চলছে, আইসোলেশন চলছে, আইসিইউ আছে, চিকিৎসকরাও সচেষ্ট আছে। আমরা চেষ্টা করছি, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন।
তিনি বলেন, আজকে চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক চায়না সরকারের এনড্রোসমেন্টসহ ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল, যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজের সমপরিমাণ ভ্যাকসিন হাতে পেয়েছি। আমাদের হাতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন রয়েছে। আমরা পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব। এটা দেওয়া কোনো অসুবিধা হবে না।
আমরা অ্যান্টিরেবিস টিকাও দেওয়া শুরু করছি। একটা রোগীও এই ভ্যাকসিনের বাইরে থাকবে না। প্রতিটা ভ্যাকসিনেসন এখন চলছে।
ভিটামিন এ ক্যাপসুলটা একটু শর্ট আছে। জুন নাগাদ আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ পেয়ে যাবো। পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা বছরে দুইবার ভিটামিন-এ দেবো। এই সেক্টরে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না।
হামের টিকার সংকট নিয়ে প্রশ্ন করা করা হলে মন্ত্রী বলেন, আমরা তো আশা করি। আমরা তো টিকাই দিচ্ছি। হামের টিকার ওপরে তো আর কোন ট্রিটমেন্ট নেই। ইট টজ ‍এ কন্টিনিউয়াজ প্রসেস। উই আর কন্টিনিউ এভরি ডে। এমন না যে আমাদের টার্গেট শেষ হয়ে গেলে আমরা অফ হয়ে যাবো, আমরা খুঁজে খুজে টিকা দিবো। যেখানে হান্ড্রেড পার্সেন্ট টার্গেট আমাদের হয়েছে ওয়ালর্ড হেল্থ অর্গানাজেশন স্বীকার করেছে যে আমাদের টার্গেট ফিলাপ হয়েছে।এখন আমরা উই আর লুকিং ফর দ্য বেবিস আনভ্যাক্সিনেটেট। আমাদের রুটিন ইপিআই চলমান রয়েছে।
এ সময় আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
হামের প্রাদুর্ভাবে খালি হচ্ছে অনেক মায়ের কোল। সন্তান হারানোর আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ। এরইমধ্যে মৃত্যু ৪০০ ছাড়িয়েছে। তবে, বর্তমানে দেশজুড়ে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ৯৮ ভাগ শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হলেও নিয়ন্ত্রণের লক্ষণ নেই।
টিকা নিয়ে অব্যবস্থাপনা যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করবেন কিনা, এমন প্রশ্ন উত্তরে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত করবো না সেটা বলিনি। এখন আমার সংকটকাল অতিক্রম করছি। এই ক্রাইসিসটা শেষ হলেই আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেব। টিকা নিয়ে কি ভুল করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়ের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি।
x

কুড়িগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

কুড়িগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

 

উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে দিনভর বর্ণিল আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় জেলাবাসী।

সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন এবং আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গে সজ্জিত এই শোভাযাত্রায় অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি “আই লাভ কুড়িগ্রাম” চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রা পরবর্তী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন বাংলা নববর্ষ আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ঐতিহ্যের ধারক। এই উৎসব সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক কাতারে দাঁড়ানোর প্রেরণা দেয়। আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—হিংসা ও বৈষম্যমুক্ত একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার ফজলে রাব্বি, পুলিশ সুপার, সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, প্রশাসক, জেলা পরিষদ, বি.এম কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা বিএনপি, নিজাম উদ্দিন, জেলা সেক্রেটারি, জামায়াতে ইসলামী প্রমুখ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে নববর্ষের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জেলার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান। আনন্দ ও আগামী দিনের নতুন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামে বাংলা নববর্ষের এই উৎসব সমাপ্ত হয়।

রমজানে উলিপুরে সুলভ মূল্যে দুধ-ডিম, স্বস্তি ক্রেতাদের

রমজানে উলিপুরে সুলভ মূল্যে দুধ-ডিম, স্বস্তি ক্রেতাদের


 

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কুড়িগ্রামের উলিপুরে সুলভ মূল্যে দুধ ও ডিম বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) দুপুরে উপজেলা পোস্ট অফিস মোড় সংলগ্ন যাত্রীছাউনী এলাকায় আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিক্রয় কেন্দ্রের আনু্ষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা. রেবা বেগমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে এবং মজুদ থাকা পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত এই বিক্রয় কেন্দ্র থেকে একজন ক্রেতা লিটারপ্রতি ৬৫ টাকা দামে সর্বোচ্চ দুই লিটার দুধ এবং প্রতি কেস ডিম ২২৫ টাকা দামে সর্বোচ্চ দুই কেস পর্যন্ত ক্রয় করতে পারবেন।
উদ্বোধনকালে ইউএনও মাহামুদুল হাসান বলেন, রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সুলভ মূল্যে দুধ ও ডিম বিক্রয়ের এই কার্যক্রম সেই উদ্যোগেরই একটি অংশ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুরো রমজান মাসজুড়ে এ কার্যক্রম চালু থাকবে এবং এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
 
উলিপুর৭১ নিউজ ডেক্স:
ইসিতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী

ইসিতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।

শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত ৪ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুড়িগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন,

“মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলাম। আপিল শুনানি শেষে আমার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এজন্য নির্বাচন কমিশনসহ আমার নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৪ জন। এর মধ্যে

পুরুষ ভোটার: ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩২ জন

নারী ভোটার: ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০২ জন

 উলিপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন

উলিপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন



উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উলিপুর বিজয় মঞ্চে অবস্থিত স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান, উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিকসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় উলিপুর মিনি স্টেডিয়াম মাঠে আকাশে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে প্যারেড কমান্ডার সাব-ইন্সপেক্টর আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় পতাকায় সম্মান প্রদর্শন ও সশস্ত্র সালাম প্রদান করা হয়। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান শেষে দুপুরে উলিপুর উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় তাঁদের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল), মধ্যাহ্নভোজ এবং রজনীগন্ধা ফুলের স্টিক তুলে দেওয়া হয়। পরে উলিপুর বিজয় মঞ্চে বিজয়মালা উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসানসহ উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উলিপুর উপজেলায় মহান বিজয় দিবসের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

হরিপুর-চিলমারী সংযোগ সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত মাওলানা ভাসানী সেতু উদ্বোধন

হরিপুর-চিলমারী সংযোগ সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত মাওলানা ভাসানী সেতু উদ্বোধন

 

উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধন হলো গাইবান্ধার হরিপুর-চিলমারী সংযোগ সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত মাওলানা ভাসানী সেতু ।

বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে গাইবান্ধায় এসে সেতুটির ফলক উন্মোচন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরে দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবং ফিতা কেটে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এলজিইডি কর্মকর্তা, সেতু নির্মাণ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেতুর উভয়পাড়ে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকালে থেকেই দুই জেলার মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ভিড় জমান ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সৌদি সরকারের অর্থায়নে এবং চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে ৮০ কিলোমিটার এক্সেস সড়ক, ৫৮টি বক্স কালভার্ট ও ৯টি আরসিসি সেতু। এটি দেশের ইতিহাসে এলজিইডির সবচেয়ে বড় প্রকল্প।

২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দীর্ঘ এক দশক অপেক্ষার পর আজ স্বপ্ন পূরণ হলো উত্তরাঞ্চলের মানুষের।

স্থানীয়রা মনে করছেন, সেতুটি চালু হওয়ার ফলে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা ও শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান ও পর্যটনেও যুক্ত হবে নতুন মাত্রা।

 

ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ মানুষের ভোটের অধিকার ও গনতন্ত্র ধ্বংস করেছে : উলিপুরে কৃষকদলের সভায় আব্দুল খালেক

ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ মানুষের ভোটের অধিকার ও গনতন্ত্র ধ্বংস করেছে : উলিপুরে কৃষকদলের সভায় আব্দুল খালেক

ফিরোজ কবীর কাজল, উলিপুরঃ “‎ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ছিলো বাংলাদেশের ফেরাউন। বিনা ভোটে ক্ষমতায় ছিল হাসিনা। ২০৪১সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চেয়ে ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ভারতে পালিয়েছে হাসিনা। ‎‎

শুক্রবার(২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কৃষকদল ও মৎস্যজীবী দলের পরিচিতি সভা ও বিএনপি'র ৩১দফা লিফলেট বিতরণ কর্মসুচিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি'র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আব্দুল খালেক প্রধান অতিথি উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
‎‎তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকারের দোসররা এখন নতুন করে চক্রান্ত করছে। নতুন করে হামলার অপেক্ষায় আছে। এদের প্রতিহত করতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন তিনি। খাল ও নদী খনন করে কৃষকের জন্য সেচের ব্যবস্থা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দিয়েছেন। বিএনপি শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া ফ্রি (বিনামুল্যে) করে দিয়েছিলো।
‎‎তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। হাসিনার আমলে রাজাকার হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা। আওয়ামীলীগ মানুষের ভোটের অধিকার ও গনতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। বিগত ১৬ বছরে বিএনপি'র হাজার হাজার নেতা-কর্মী খুন, গুম ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন।
‎এসময় ‎ উপস্থিত ছিলেন- জেলা কৃষকদলের আহবায়ক রিপন রহমান, যুগ্ম আহবায়ক আবু জাফর সোহেল রানা, সাবেক ছাত্রনেতা ফিরোজ কবীর কাজল, উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক আব্দুর রহমান রাজু, সদস্য সচিব ফাজকুরুনী আহমেদ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খাইরুল ইসলাম, পৌর বিএনপি'র সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মতলেবুর রহমান মঞ্জু সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

তিস্তা নদীর ওপর সেতু চালুর অপেক্ষায়—যোগাযোগ ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

তিস্তা নদীর ওপর সেতু চালুর অপেক্ষায়—যোগাযোগ ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত


গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর কাজ প্রায় শেষের পথে। চলতি জুলাই মাসের শেষেই এটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১,৪৯০ মিটার এবং নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। এটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুরঘাট ও কুড়িগ্রামের চিলমারী ঘাটকে সংযুক্ত করছে।

সেতুটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি ঘিরে গড়ে উঠেছে একধরনের বিনোদনকেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত মানুষ পরিবার নিয়ে সেতু দেখতে আসছেন, কেউ হাঁটছেন, ছবি তুলছেন, আবার কেউ নদীতে গোসল করছেন। শিশুদের জন্য নাগরদোলা, খেলনার দোকান ও খাবারের অস্থায়ী দোকানও বসেছে। এ কারণে এলাকা হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে এখানে ছিল শুধু একটি নৌঘাট আর দু-একটি দোকান। এখন সেখানে জমে উঠেছে বাজার, বেড়েছে মানুষের আনাগোনা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য। সুন্দরগঞ্জের তিস্তা সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শরিয়ত উল্যা বলেন, “১৯৯০ সাল থেকে আমরা সেতুর জন্য আন্দোলন করেছি। এখন আমাদের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।”

৪ জুলাই সেতু এলাকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, মূল সেতুর কাজ শেষ, বাকি কিছু সংযোগ সড়ক ও বিদ্যুৎ-সংযোগের কাজ দ্রুত শেষ করে চলতি মাসেই সেতু চালু করার চেষ্টা চলছে।

সেতুটি চালু হলে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব ১৩৫ কিলোমিটার কমে যাবে, সময় বাঁচবে প্রায় ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা। এর প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে, গাইবান্ধার মতো পশ্চাৎপদ অঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানও বাড়বে।

গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, “এটি দেশের এলজিইডির সবচেয়ে বড় প্রকল্প। সেতুটি চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এটি শুধু যোগাযোগ নয়, উন্নয়নের বড় মাধ্যম হয়ে উঠবে।”

দাম বেড়েছে সবজির, সংকট সয়াবিন তেলের

দাম বেড়েছে সবজির, সংকট সয়াবিন তেলের

 

বাণিজ্য ডেস্ক: ঈদের আগের তুলনায় অর্থাৎ প্রায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই কমবেশি বেড়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকার আশপাশে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা বেশি।
এছাড়া বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট চলছে। আগের চেয়ে নির্ধারিত দাম না বাড়লেও অনেক দোকানে সয়াবিন তেল নেই। যে কারণে অনেকে বোতলের গায়ের দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন।
সবজি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ কম। শীতের অধিকাংশ সবজি শেষ হয়ে গেছে আর গ্রীষ্মের অনেক সবজি এখনো বাজারে কম। এ কারণে দাম বেড়েছে।

রাজধানীর রামপুরা বাজারে সকালে ঢুকতেই সবজির বাড়তি দামের আঁচ পাওয়া গেল। দাম নিয়ে এক সবজি বিক্রেতার সঙ্গে তর্কে জড়ান স্থানীয় বাসিন্দা বিধান চন্দ্র। তিনি সেখান থেকে ১০০ টাকা দরে আধা কেজি বরবটি ও করলা কিনেছেন। তিনি বলেন, ঈদের আগেই সব সবজি ৬০ টাকার আশপাশে ছিল। ঈদের পরে সব বেড়ে যাচ্ছে।
ওই বাজারের পাশাপাশি মালিবাগ ও শান্তিনগর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে করলা, ঝিঙা, ধুন্দুল, চিচিঙ্গা ৮০–১০০ টাকায়, পটোল, ঢ্যাঁড়স ৬০–৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির মধ্যে দাম কম রয়েছে পেঁপের, তাও ৪০-৫০ টাকা। অবশ্য কারওয়ান বাজারের মতো বড় বাজারে সবজির এ দাম আরও কিছুটা কম।এছাড়া খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫ টাকা বেড়ে ৩৫-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া আলু, আদা, রসুন ও আলুর দাম আগের মতোই রয়েছে।  এদিকে, বাজারে আবারও সয়াবিন তেলের কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক দোকানেই তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে। অর্থাৎ কোনো দোকানে ৫ লিটারের বোতলজাত তেল থাকলেও এক-দুই লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোনো কোনো দোকানে প্রতি লিটারে নির্ধারিত দাম ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে।মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা এনামুল বলেন, কোম্পানি তেল দেয় না। ঈদের পর থেকে অর্ডার নিচ্ছে না। যে কারণে ৫ টাকা বেশি দিয়ে বাইরে থেকে কিনে আনি।
আরেক বিক্রেতা বলেন, আজ ঈদের পর প্রথম একটা কোম্পানি তেল দিয়ে গেছে। দুই লিটারের মাত্র তিন কার্টন তেল। আর বলেছে, দাম বাড়ানোর আগে মাল দেবে না। নতুন রেট এলে নতুন তেল পাবেন।
প্রসঙ্গত, সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে একলাফে ১৮ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকরা। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দুই দফা বৈঠকের পরও দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস ২৭ মার্চ ট্যারিফ কমিশনে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে ১ এপ্রিল থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৩ টাকা হবে বলে জানায় পরিশোধন কারখানার মালিকদের ওই সংগঠন। সেই হিসাবে লিটারে দাম বাড়ছে ১৮ টাকা। তবে দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের অনুমতি এখনো মেলেনি। যে কারণে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে।