শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুম্মার নামাজের পর মসজিদুল হুদা মোড় হতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ইনকিলাব মঞ্চ উলিপুরের ব্যানারে মসজিদুল হুদা মোড়ে অবস্থান কর্মসুচি পালন করা হয়। এতে ছাত্র নেতা আব্দুল্লাহ আল ফারাবী, যুব নেতা নাজমুল হক সহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। বক্তরা হাদী হত্যাকান্ডে ভারতে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়ে খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে ভারতীয় সব পণ্য বর্জন করার আহবান জানান।
উলিপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উলিপুর বিজয় মঞ্চে অবস্থিত স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান, উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিকসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় উলিপুর মিনি স্টেডিয়াম মাঠে আকাশে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে প্যারেড কমান্ডার সাব-ইন্সপেক্টর আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় পতাকায় সম্মান প্রদর্শন ও সশস্ত্র সালাম প্রদান করা হয়। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান শেষে দুপুরে উলিপুর উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় তাঁদের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল), মধ্যাহ্নভোজ এবং রজনীগন্ধা ফুলের স্টিক তুলে দেওয়া হয়। পরে উলিপুর বিজয় মঞ্চে বিজয়মালা উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসানসহ উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উলিপুর উপজেলায় মহান বিজয় দিবসের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
উলিপুরে প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছাত্তারের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা
কম্পিউটার শিক্ষক ফজলুর রহমানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহমেদ ফারুক। এসময় বক্তব্য রাখেন, সহকারী শিক্ষক গোলজার হোসেন, জিতেন্দ্র নাথ রায়, এহছানুল করিম প্রিন্স, প্রাক্তন শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান রাজু, সাজাদুল ইসলাম সাজু, রায়হানুল ইসলাম রনি, শিক্ষার্থী রাদিয়া বশরি, ইশফাত জান্নাত পাখি, লাবিব হাসান, মোহনা আক্তার প্রমুখ। প্রধান শিক্ষকের বিদায়ী মানপত্র পাঠ করেন সহকারী শিক্ষক মুক্তাজাহান।
অনুষ্ঠানে প্রিয় শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট, উপহার এবং সম্মাননা স্মারক দিয়ে বিদায় জানান সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। উপস্থিত সকলে অশ্রুসজল নয়নে প্রিয় প্রধান শিক্ষককে বিদায় জানান। জীবনের শেষ কর্মদিবসে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রিয় শিক্ষককে কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় সুসজ্জিত এক কার গাড়িতে। গাড়িতে ওঠার সময় বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুল ছিটিয়ে ও ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়।আব্দুস ছাত্তার ১৯৯৬ সালের ২ জুলাই নারিকেল বাড়ী পন্ডিত মহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২৮ নভেম্বর ছিল তার শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সবার হৃদয়ে জায়গা করে নেন।
বিদায় মুহূর্তে সবাই বলেন, ‘স্যার ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণার মানুষ, শিক্ষাক্ষেত্রে আব্দুস ছাত্তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার অবসর জনিত বিদায় বিদ্যালয়ের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) সৈয়দ আহমেদ ফারুক বলেন, ‘আব্দুস ছাত্তার ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও (দায়িত্বশীল শিক্ষক। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের এসেছে বহু সাফল্য। তাঁকে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করব।’
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছাত্তার বলেন, ১৯৯৬ সালের ২ জুলাই থেকে এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ২৮ নভেম্বর ছিল আমার শেষ কর্মদিবস। বিদ্যালয় ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এই বিরল সম্মান পেয়ে আমি অভিভূত। জীবনে অনেক কঠিন সময় পার করেছি, তবু সততা ও ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করে আজ তার পরিসমাপ্তি হলো। এই বিদ্যালয় আমার জীবনের গর্বের অধ্যায়। সবার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কারণেই আজকের এই দিন সম্ভব হয়েছে। আমি দোয়া করি, এ এলাকার সন্তানরা যেন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে। সবাই দোয়া করবেন অবসর সময়টা যেন পরিবারকে নিয়ে সুন্দরভাবে কাটাতে পারি।
উলিপুরের পাগলা হোটেল মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য এক আশ্রয়স্থল
হোটেলটির মালিক রনজু মিয়া ছোটবেলা থেকেই অন্যদের কষ্টে ভোগার দৃশ্য দেখে তার মধ্যে মানবিক অনুভূতি জাগ্রত হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসহায় মানুষদের প্রতি তার এক বিশেষ সহানুভূতি ছিল। নিজের ছোট্ট খাবারের হোটেলটি খুলে, রনজু শুরু করেন এক দৃষ্টান্তমূূলক উদ্যোগ এখানে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষরা বিনামূূল্যে খাবার পাবেন।
এই উদ্যোগটি ধীরে ধীরে এলাকাবাসীর মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং তাদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে 'পাগলা হোটেল' নামটি। আজ এটি শুধু একটি খাবারের দোকান নয়, বরং সেখানকার প্রতিটি খাবারের টুকরা হয়ে ওঠে এক টুকরা মানবতা। প্রায় এক বছর ধরে প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই হোটেলে ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা থাকে। আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ এখানে আসেন এবং রনজু মিয়া নিজেই তাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করে পরিবেশন করেন।
এলাকার বাসিন্দারা মনে করেন, যেখানে সবাই নিজেদের স্বার্থের পেছনে ছুটছে, সেখানে রনজু মিয়ার এই উদ্যোগ আমাদের মনে মানবিকতার উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়েছে। তার এই অসাধারণ উদ্যোগ শুধু খাবার নয়, শিখিয়েছে মানুষকে সহানুভূতির প্রকৃত অর্থ। রনজু মিয়া নিজের বিশ্বাসে দৃঢ় যে, “মানুষকে ভালোবাসার মধ্েেযই জীবনের আসল শান্তি নিহিত রয়েছে। তার মতে, সমাজের বঞ্চিত ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
‘পাগলা হোটেল’ এ শুধুমাত্র খাবার নয়, মানুষ সেখানে অনুভব করে এক অবর্ণনীয় ভালোবাসা ও সহানুভূতির ছোঁয়া। রনজু মিয়ার এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার এক চমৎকার উদাহরণ। এই উদ্যোগ এক নতুন আলোর পথ দেখাচ্ছে, যেখানে মানুষের জন্য মানবতা এখনও অটুট রয়েছে।
হরিপুর-চিলমারী সংযোগ সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত মাওলানা ভাসানী সেতু উদ্বোধন
উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধন হলো গাইবান্ধার হরিপুর-চিলমারী সংযোগ সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত মাওলানা ভাসানী সেতু ।
বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে গাইবান্ধায় এসে সেতুটির ফলক উন্মোচন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরে দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবং ফিতা কেটে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এলজিইডি কর্মকর্তা, সেতু নির্মাণ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেতুর উভয়পাড়ে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকালে থেকেই দুই জেলার মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ভিড় জমান ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সৌদি সরকারের অর্থায়নে এবং চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে ৮০ কিলোমিটার এক্সেস সড়ক, ৫৮টি বক্স কালভার্ট ও ৯টি আরসিসি সেতু। এটি দেশের ইতিহাসে এলজিইডির সবচেয়ে বড় প্রকল্প।
২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দীর্ঘ এক দশক অপেক্ষার পর আজ স্বপ্ন পূরণ হলো উত্তরাঞ্চলের মানুষের।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সেতুটি চালু হওয়ার ফলে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা ও শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান ও পর্যটনেও যুক্ত হবে নতুন মাত্রা।
বারবার বদলাচ্ছে উদ্বোধনের তারিখ: হতাশ উত্তরের জনপদের মানুষ
উত্তরের জনপদের বহু প্রতীক্ষিত হরিপুর–চিলমারী তিস্তা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি এর উদ্বোধন। বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে তারিখ। সর্বশেষ নতুন করে ঘোষণা করা হয়েছে ২৫ আগস্ট। ফলে উদ্বোধনের প্রহর গুনতে গুনতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত ২ আগস্ট (শনিবার) নির্ধারিত উদ্বোধনের তারিখ বাতিল করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিপ্তরের (এলজিইডি) গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী।
এর আগে, ১৩ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শামীম বেপারীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে ২ আগস্ট উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এমনকি গত ৪ জুলাই এলজিইডির সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী সেতু পরিদর্শনে এসে জুলাই মাসেই উদ্বোধনের পরিকল্পনার কথা জানান।
তবে ২ আগস্টের তারিখও বাতিল হওয়ার কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। এলজিইডির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও উপদেষ্টা মহোদয়ের ব্যস্ততাই তারিখ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হতে পারে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সৌদি সরকারের অর্থায়নে ও চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে ৮৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই সেতু। এটি দৈর্ঘ্যে ১,৪৯০ মিটার ও প্রস্থে ৯.৬ মিটার বিশিষ্ট, যা দেশের ইতিহাসে এলজিইডির সর্ববৃহৎ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সেতুকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সেস সড়ক, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৫৮টি বক্স কালভার্ট ও ৯টি আরসিসি সেতু। এই সড়কটি বেলকা বাজার, পাঁচপীর, হাট লক্ষ্মীপুর, ধর্মপুর, সাদুল্যাপুর ও ধাপেরহাটসহ প্রায় ১০টি বাজার ও মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করবে সুন্দরগঞ্জ ও চিলমারী অঞ্চলকে।
টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান, পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ক্ষতিগ্রস্তদের
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই বাজারে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জাহিদুলসহ আরও কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী।
এই দুর্দিনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় সেবামূলক সংগঠন উলিপুর উন্নয়ন ফোরাম। তাদের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
শুক্রবার(১৮ জুলাই) সকালে আয়োজিত সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্লাবন ও জামায়াতের থেতরাই ইউনিয়ন সভাপতি মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উলিপুর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন,“মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ানোই মানবতার আসল পরিচয়। আমরা চেষ্টার ত্রুটি রাখছি না যেন ক্ষতিগ্রস্তরা আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।”
স্থানীয়রা জানান, এই সহায়তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তরা নতুন করে ব্যবসা শুরুর সাহস পাচ্ছেন এবং এতে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
উলিপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক
রোববার (১৩ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে রংপুর অঞ্চলের ৭২ পদাতিক ব্রিগেডের অধীনস্থ ২২ বীরের একটি টহল দল। সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম সেনা ক্যাম্পের মেজর শাহারিয়ার আহাদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটককৃতরা হলেন—উপজেলার দক্ষিণ মধুপুর গ্রামের মৃত মহসিন আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এবং কাশিয়াগানি গ্রামের একাব্বর আলীর ছেলে রেজাউল করিম।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উক্ত দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। তাদের দেহ তল্লাশিতে ১২৮ পিস ইয়াবা, নগদ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে মেজর শাহারিয়ার আহাদ বলেন, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও মাদক ও অপরাধ দমনে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ মাদকবিরোধী লড়াইকে আরও গতিশীল করবে এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে বড় ভূমিকা রাখবে।
তিস্তা নদীর ওপর সেতু চালুর অপেক্ষায়—যোগাযোগ ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত
গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর কাজ প্রায় শেষের পথে। চলতি জুলাই মাসের শেষেই এটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১,৪৯০ মিটার এবং নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। এটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুরঘাট ও কুড়িগ্রামের চিলমারী ঘাটকে সংযুক্ত করছে।
সেতুটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি ঘিরে গড়ে উঠেছে একধরনের বিনোদনকেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত মানুষ পরিবার নিয়ে সেতু দেখতে আসছেন, কেউ হাঁটছেন, ছবি তুলছেন, আবার কেউ নদীতে গোসল করছেন। শিশুদের জন্য নাগরদোলা, খেলনার দোকান ও খাবারের অস্থায়ী দোকানও বসেছে। এ কারণে এলাকা হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে এখানে ছিল শুধু একটি নৌঘাট আর দু-একটি দোকান। এখন সেখানে জমে উঠেছে বাজার, বেড়েছে মানুষের আনাগোনা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য। সুন্দরগঞ্জের তিস্তা সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শরিয়ত উল্যা বলেন, “১৯৯০ সাল থেকে আমরা সেতুর জন্য আন্দোলন করেছি। এখন আমাদের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।”
৪ জুলাই সেতু এলাকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, মূল সেতুর কাজ শেষ, বাকি কিছু সংযোগ সড়ক ও বিদ্যুৎ-সংযোগের কাজ দ্রুত শেষ করে চলতি মাসেই সেতু চালু করার চেষ্টা চলছে।
সেতুটি চালু হলে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব ১৩৫ কিলোমিটার কমে যাবে, সময় বাঁচবে প্রায় ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা। এর প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে, গাইবান্ধার মতো পশ্চাৎপদ অঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানও বাড়বে।
গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, “এটি দেশের এলজিইডির সবচেয়ে বড় প্রকল্প। সেতুটি চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এটি শুধু যোগাযোগ নয়, উন্নয়নের বড় মাধ্যম হয়ে উঠবে।”
চিলমারীতে কড়াই গাছের ভেতরে রহস্যজনক আগুন
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় একটি কড়াই গাছের ভেতরে রহস্যজনকভাবে আগুন জ্বলছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের রমনা রেলস্টেশন এলাকায়। খবর পেয়ে চিলমারী ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, গাছটির ভেতর থেকে হঠাৎ করে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখা যায়। প্রথমে স্থানীয়রা নিজেরা পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন আরও ছড়িয়ে পড়লে তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
চিলমারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম লিডার মো. ফারুক হোসেন বলেন,"ঘটনাটি শোনার পর সকালে গিয়ে দেখি গাছের ভিতরে আগুন জ্বলছে। আমরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হইনি। পরে আবার এসে দেখি আগুন এখনও জ্বলছে, চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।"
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে অলৌকিক বলেও দাবি করেন। উপস্থিত একজন বলেন,“গাছে আগুন ধরেছে, এটা আল্লাহ প্রদত্ত আগুন। ফায়ার সার্ভিসও কিছু করতে পারেনি। আসলে কোথা থেকে আগুন এলো, আমরা কেউ বুঝতে পারছি না।”
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক জানান,“গাছটি রেলওয়ের জায়গায় অবস্থিত। আমি নিজে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ফায়ার সার্ভিস সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও আগুন নেভাতে পারেনি। পরে বিষয়টি রেলওয়ে ও বন বিভাগকে জানানো হয়েছে।”
৫ বছরের ছেলে ফাহিম বাঁচতে চায়, চায় সহযোগীতা
প্রহলাদ মন্ডল সৈকতঃ
ফাহিমে বয়স ৫ বছর। সে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের মিজানুর রহমানের ছেলে। এই বয়সে শরীরে এক ভয়াবহ ব্যাধি বহন করে চলেছে সে। প্রথম দিকে জ্বর ছিলো। দীর্ঘদিনে জ্বর না সারলে রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। ধরা পরে ব্লাড ক্যান্সার। বারবার পরীক্ষা করানোর পরও একই ফলাফল। এখন রোগটা সারবে। কিন্তু পরীক্ষা -নিরীক্ষাসহ দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা দরকার হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ফাহিমের মোবাইল মেকানিক পিতার অতো টাকা সংগ্রহের সামর্থ নেই।ফলে জনগণের সংকটে এগিয়ে আসতে হবে আমাদেরকেই। আপনারা যারা সহযোগিতা করতে চান--- মিজানুর রহমান (ফাহিমের পিতা),তালুক আষাঢ়ু, চাকিরপশার, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।
০১৭৬৭২৮০০১১( বিকাশ/নগদ),
০১৭৬৭২৮০০১১+১(রকেট),
অগ্রণী ব্যাংক, চলতি হিসাব নম্বর: ০২০০০২৩৩৫৩৭৮৩ (রাজারহাট শাখা)
২৬২১১০০০২১৮৯২ ডাচ-বাংলা ব্যাংক,কুড়িগ্রাম শাখা।
রাজারহাটে স্বপ্ন সপের ডিলারের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু
প্রহলাদ মন্ডল সৈকতঃ
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে নাজমুল হোসেন (৪২) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মুত্যু হয়েছে। তিনি রাজারহাট স্বপ্ন সপের ডিলার ছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, সোমবার(১৬জুন) দুপুর দেড়টায় নাজমুল হোসেন (৪২) উপজেলার নাজিমখাঁন ইউনিয়নের মানাবাড়ি কাচারিপাড়া গ্রামে বাড়িরপাশে জমিতে বৈদ্যুতিক সেচপাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন করে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হন। তাকে দ্রুত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ের পথিমধ্যে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নাজমুল হোসেন ওই গ্রামের মৃত জাহেদুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ তছলিম উদ্দিন নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় রাজারহাট থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজারহাটে গাঁয়ে হলুদ না হতেই ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু
গাঁয়ে হলুদ না দিতেই সড়কেই ঝড়ে গেল কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক যুবকের প্রাণ। এ সপ্তাহেই গাঁয়ের হলুদের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল ওই যুবকের। কিন্তু বিধাতার নির্মম পরিহাস মঙ্গলবার(১৭জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় কুড়িগ্রামের রাজারহাটের নাজিমখান বাজারের পাশে সাকিন মজিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালের সামনে ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় বর মটরসাইকেল চালক মনিরুজ্জামান মুন্না(৩৫)।
তিনি রংপুর জেলার হারাগাছের বাংলাবাজার ঠাঁকুরদান এলাকার মাহফুজার রহমানের ছেলে। এবি খালেদ গুলের সেলসম্যান হিসেবে নাজিমখান এলাকায় কর্মরত ছিলেন এবং ভাড়া বাসায় অবস্থান করতেন তিনি।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানান, মঙ্গলবার(১৭জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় নাজিমখান বাসা থেকে মটর সাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথে একটি নছিমন অপর একটি সাইকেলরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে মটরসাইকেল চালক মনিরুজ্জামান মুন্নাকে ধাক্কা দিলে ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়। এসময় ট্রলিটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পাশের একটি খাদে পড়ে যায়। খবর পেয়ে রাজারহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। এসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাশের ছবি দেখে মুন্নার বাড়ির লোকজন এসে লাশ শনাক্ত করে নিয়ে যায়। সম্প্রতি মনিরুজ্জামান মুন্নার সাথে উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের চৌমোহনী মিলের পাড় বাজারের পাশে জনৈক মোকছেদ আলীর মেয়ের সাথে বিয়ে রেজিষ্টারী হয়েছিল। আগামী শুক্রবার তার গায়ের হলুদ ও আনুষ্ঠানিকতার দিন ধার্য্য ছিল বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে রাজারহাট থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের হয়েছে বলে থানার দায়িত্বরত সাব-ইন্সেপেক্টর বিকাশ চন্দ্র রায় জানিয়েছেন।
উলিপুরে তারুণ্যের ঐক্য সমাজকল্যাণ সোসাইটির কমিটি ঘোষণা
উলিপুর উপজেলার সেচ্ছাসেবী সংগঠন তারুণ্যের ঐক্য সমাজকল্যাণ সোসাইটি তরুণ-যুবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় "এসো মিলি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে, আমাদের একতা দেশের কল্যাণে" এই স্লোগানে ২০১৯ খ্রি. প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন সামাজিক, সচেতনমূলক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি । উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বেশ জোরালো ভাবে সেবামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গতানুগতিক ধারায় আগানোর নিমিত্তে সৃজনশীল নেতৃত্বে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে পূর্বের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে ১৩/০৬/২০২৫ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়া পপুলার মডেল স্কুল মাঠে বিকেল ৪ ঘটিকায় এক বর্ধিত আলোচনা সভায় তারুণ্যের ঐক্য সমাজকল্যাণ সোসাইটির নির্বাহী কমিটি আগামী ৩ বছরের জন্য গঠন করা হয় এতে সামছুল আলম কে সভাপতি, ফজলুল হক কে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মোহেব্বুল হাসান কে সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মাহমুদুল হাসান কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ১৩ জুন ২০২৫ ইং সংগঠনটির প্যাডে কমিটির সভাপতি সামছুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহেব্বুল হাসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাধারণ সম্পাদক মোহেব্বুল হাসান।
সদ্য দায়িত্ব প্রাপ্ত সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলুল হক বলেন সবার মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সকলের অকুণ্ঠ সমর্থনে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন তাঁদেরকে জানাই অভিনন্দন। বিশেষ ধন্যবাদ জানাই যাঁরা আমাদেরকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছেন । নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সহিত সকলের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে সাংগঠনিক অবকাঠামোর উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার চেষ্টা করবো ।
সদ্য সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান বলেন নব-নির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন। নির্বাচিত কমিটিতে সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলমকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বশীল হিসেবে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে যাঁর ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। সবার প্রত্যাশার জায়গা থেকে সৃজনশীল নেতৃত্বে আগামীতে আরও সু-সংগঠিত হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম বেশ জোরালো ভাবে এগিয়ে নিয়ে সংগঠনকে সেরাটা উপহার দিবে ইনশাআল্লাহ ।
উলিপুরে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে মাংস বিতরণ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ঈদের দ্বিতীয় দিনে ১ হাজার ২ শত ২৫ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ২ কেজি করে কোরবানীর মাংস বিতরণ করেছে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ। রোববার উপজেলার হাতিয়া, বুড়াবুড়ী, ধরণীবাড়ী,পান্ডুল ও দুর্গাপুর ইউনিয়নে ওই সংস্থার উদ্যোগে এসব মাংস বিতরণ করা হয়। মাংস বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম, সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, আব্দুস সালাম এবং শামীম আহম্মেদ সহ প্রমুখ। এ ব্যাপারে সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম বলেন, গত বছরেও দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে কোরবানীর মাংস বিতরণ করা হয়েছিলো। এ বছর সংস্থার পক্ষ থেকে মোট ৩৫ টি গরু কোরবানী দেয়া হয়েছে। এর ফলে সমাজের সবচেয়ে হতদরিদ্র পরিবারগুলো মাংস পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যারা কোরবানীর ঈদ ছাড়া গরুর মাংস খেতে পারে না, তাদের জন্যই কেবলমাত্র এই সুবিধা প্রদান করা হয়।